‘পানি উন্নয়ন বোর্ড’ হচ্ছে ‘বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর’

দেশের পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে কাজ করা ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’কে বিলুপ্ত করে নতুন করে ‘বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর’ নামে গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। 

এজন্য বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর আইন-২০২০’ নামে প্রণয়ন করা হচ্ছে নতুন আইন। ইতোমধ্যেই এ আইনের মূল খসড়া প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। 

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে আইনটি। সব ঠিক থাকলে এ বছরের শেষ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পানিসম্পদ অধিদফতরে রূপান্তরের কাজ শেষ হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, আইনটি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরো কিছু কাজ বাকি আছে। এর কাজ শেষ হলেই তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে আইনটি। জাতীয় সংসদে আইনটি পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতরে নামে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন সাধন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ভিশন থাকলেও নতুন আইনে গঠিত অধিদফতরের মূল ভিশন হচ্ছে পানিসম্পদের টেকসই উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। 

একইসাথে বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক নদীর প্রবাহ, লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, বন ইত্যাদি ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন সাধন করাও হবে অধিদফতরের কাজ।

জানা গেছে, ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ক্রুগ মিশন এর সুপারিশক্রমে এ অঞ্চলের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। 

বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদার পানি উইং হিসেবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্টর আদেশ নং: ৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদার পানি অংশ একই ম্যান্ডেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) হিসেবে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন, ২০০০ প্রণয়ন করা হয়। 

বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩ এর অধীন জাতীয় পানি নীতি ও জাতীয় পানিসম্পদ পরিকল্পনা এবং ডেল্টা প্লান-২১০০ এর আলোকে এবং উপ-আঞ্চলিক ও স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত হবে।

বাপাউবো আইন অনুসারে এতদিন জাতীয় পানি নীতি, জাতীয় পানি মহাপরিকল্পনা, অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা গাইড লাইন ও দেশের পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন করা হলেও এখন এ কাজগুলো পরিচালিত হবে পানি উন্নয়ন অধিদফতর আইন ২০২০ অনুসারে। মাঝারি ও বড় প্রকল্পসমূহে স্থানীয় সংগঠনের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তাবায়িত হবে বলেও আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কোনো ভিন্নতা ছাড়াই আটটি সুনির্দিষ্ট মিশন নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর। এগুলো হচ্ছে

১. সমাজের সব স্তর, শ্রেণি ও পেশার লোকজনের অংশগ্রহণ ও জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা। 

২. স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। 

৩. সব শ্রেণি ও পেশা, বিশেষত দরিদ্র জনগণের জন্য কার্যকর ও দক্ষ সেবা প্রদান করা। 

৪. দারিদ্র্য হ্রাস করা। 

৫. খাদ্য নিরাপত্তা প্রদান করা। 

৬. প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা ও 

৭. পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন কৌশল অনুসরণ।

‘বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর আইন-২০২০’ আইনটি বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম শেষে জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন-২০০০ বিলুপ্ত হবে। একইসাথে বিলুপ্ত হবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। গঠিত হবে বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতর। 

নতুন আইনের চার ধারায় বলা আছে- বাংলাদেশ পানিসম্পদ অধিদফতরের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার পদবি হবে মহাপরিচালক বা ডিরেক্টর জেনারেল। এর সদর দফতর রাজধানী ঢাকায় হবে বলে খসড়া আইনের ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh