নতুন মহাসড়ক আইনে যা আছে

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত মহাসড়ক আইনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে যেকোনও অবকাঠামো স্থাপনকে ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনে বলা হয়েছে, ক্ষতিকারক উপাদান ছড়িয়ে দেয় এমন মোটরগাড়ি মহাসড়কে চলতে পারবে না। এর অন্যথা হলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মহাসড়কে ফসল, খড় বা অনুরূপ উপকরণ শুকানোর জন্য রাখা হলে বা অনির্ধারিত জায়গা দিয়ে চলাচল করলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। অনুমোদন ছাড়া ঝুলন্ত বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা কোনও প্রকার তোরণ নির্মাণ করা যাবে না। আইনে এই নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

গত সোমবার (২৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মহাসড়ক আইন- ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক প্রেস ব্রিফিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত আইনে সরকারি বা বেসরকারি ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুমতি ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারবে না। অন্যথায় তারাও শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।

এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর প্রায় শতবর্ষ পুরনো মহাসড়ক আইন-১৯২৫ এর পরিবর্তে নতুন আইন প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। আইনটি সংসদে বিল আকারে পাশের পর তা বাস্তবায়ন শুরু হবে।

নতুন মহাসড়ক আইনটির মহাসড়ক সম্পর্কিত নতুন বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। আইনে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। মহাসড়কের অনেক ‘ইস্যু’ বর্তমান আইনের আওতায় আসে না বলে নতুন করে মহাসড়ক আইন করেছে সরকার- এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আইনে মাত্র পাঁচটি ধারা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- শিরোনাম, ব্যাপ্তি ও প্রারম্ভিককরণ, সংজ্ঞা, সরকারি রাস্তাগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ এবং নিয়ম করার ক্ষমতা ও জরিমানা। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নতুন আইনে ধারা রয়েছে ২০টি। মহাসড়ক আইন-১৯২৫ অনুসারে, সব ‘সরকারি রাস্তা’ গণপূর্ত বিভাগের অধীনে। কিন্তু, বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। কয়েক দশক ধরেই রাস্তাগুলো সওজের অধীনে রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৯২৫ সাল থেকে শুরু করে মহাসড়কের সংখ্যা এবং ব্যবহারও বেড়েছে। অপরদিকে এক্সপ্রেসওয়ে এবং নিয়ন্ত্রিত হাইওয়ে, টোল রোডের মতো অনেক উন্নয়ন সড়ক এ খাতে যুক্ত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশের ২২টি হাইওয়েতে মোটরবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া রাস্তাগুলোয় দ্রুত এবং ধীর গতির যানবাহন একইসঙ্গে চলাচল করা এখন সাধারণ বিষয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জাতীয় সংসদে নতুন আইনটি বিল আকারে পাশের পর দেশের মহসড়কগুলোয় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশের সড়ক এবং মহাসড়কে বা এগুলোর পাশে অন্তত ১৬ হাজার ৫০৫টি অবৈধ অবকাঠামো ছিল। সওজের তথ্য অনুযায়ী তাদের এক লাখ ৪৮ হাজার ১৮১ দশমিক ৬৮ একর জমি অবৈধ দখলে ছিল। ধীরে ধীরে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যক্রম চলছে। আইনটি পুর্ণাঙ্গ রূপ পেলে নিয়ন্ত্রণ দৃশ্যমান হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ২০১৯-২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিভাগের অধীনে প্রায় ২২ হাজার ৩৬১ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৪৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, চার হাজার ৮৮২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৩৬ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এই আইনের খসড়াটি তৈরি করে এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠায়।

আইনে বলা হয়েছে, সরকার যেকোনও সড়ককে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে মহাসড়ক, নিয়ন্ত্রিত মহাসড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ে ঘোষণা করতে পারবে। আইন অনুযায়ী, সওজ থেকে পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনও সড়ক বা মহাসড়ক নিয়ন্ত্রিত হাইওয়েতে সংযুক্ত করা যাবে না। প্রয়োজনে সওজ নকশা অনুমোদন দেওয়ার পরে মোড়, ইন্টারচেঞ্জ ও মার্জ লেনগুলো তৈরি করা যেতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি ইউটিলিটি সেবা সরবরাহকারীদের মহাসড়কের পাশে লাইন স্থাপনের পূর্বে অনুমোদন নিতে হবে এবং এর জন্য চার্জ দিতে হবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //