জুলাইয়ে হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি

জুলাইয়ের ২২ দিনে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানায়।

কন্ট্রোল রুম জানায়, ২২ জুলাই সকাল ৮ টা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এ মাসে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৩ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় (২১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ২২ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৫ জন। এবং তারা সবাই ঢাকার রোগী।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৪১২ জন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৪১ টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪০৯ জন, বাকীরা দেশের অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ সকাল পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৮৫ জন, আর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭০ জন।

কন্ট্রোল রুম জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে নয় জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন, মে মাসে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন আর জুলাইয়ের ২২ তারিখ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৩ জন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৭২ জন আর কেবলমাত্র ২২ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে শনাক্ত হয়েছেন এক  হাজার ১৩ জন। যা কিনা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট রোগীর তিনগুণেরও বেশি।

ডেঙ্গুতে রোগী বাড়ছে একাধিকবার জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন জানিয়েছেন, জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিলো ৭১ জন। ঢাকায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ঢাকার বাইরেও ধীরে ধীরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা ৩২ জন। জানুয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৮১২ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মশারি ব্যবহার করতে হবে। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং সরকারি ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, পুরো ঢাকার কথা চিন্তা করলে অনেকেই ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কারও কারও শারীরিক অবস্থা আইসিইউতে যাওয়ার মতো হয়েছে। সেই জন্য আমাদের খেয়াল করতে হবে, কীভাবে আমরা এটা প্রতিরোধ করবো। ডেঙ্গু রোগী করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh