ICT Division

হু হু করে ছড়াচ্ছে ‘চোখ ওঠা’ রোগ

রাতভর ঘুম হয়নি। এক হয়নি দুই চোখের পাতা। সকাল সকাল তাই হাসপাতালের বারান্দায় রাজধানীর হাজারীবাগের বাসিন্দা খালেদা বেগম। তার সঙ্গে স্বামী ও সন্তানও। পুরো পরিবারের সবার একই অবস্থা। চোখ উঠেছে তাদের। এজন্য ঢাকা মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) বহির্বিভাগে এসেছে পরিবারটি।

সকাল থেকে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সামনে চিকিৎসাসেবা নিতে আসাদের বেশিরভাগই চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত।

ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিস (চোখের প্রদাহ) হচ্ছে চোখ ওঠা রোগ। তীব্র ছোঁয়াচে এ রোগে এ বছর দেশে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখ ওঠা রোগ মূলত ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। চোখের কনজাংটিভা নামক পর্দার প্রদাহই চোখ ওঠা রোগ। এ রোগের জন্য ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দায়ী। তবে চোখ ওঠা রোগের সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণায় তা প্রমাণিতও হয়নি।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে রোগটির সংক্রমণ অধিক। কনজাংটিভাইটিস (চোখের প্রদাহ) রোগে সব বয়সিরাই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে শিশুদের বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। 

এতে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। সংক্রমিতরা বেশিরভাগই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।তবে অনেকেই অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

চিকিৎসকরা বলছেন, অধিক মাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ায় এ রোগে আক্রান্ত হলে নিজে সতর্ক হতে হবে। সতর্ক না হলে এ রোগ থেকে কর্নিয়ার আলসার ও অন্ধত্বের মতো গুরুতর অবস্থাও হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় চোখের প্রদাহ দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে করোনার সংক্রমণ তেমনটা নেই। এ সময়ে কোভিড পজিটিভ না হলেও এ রোগ হচ্ছে। তাই এই রোগ করোনার কারণে হচ্ছে-এমনটা ভ্রান্ত ধারণা।

মঙ্গলবার ঢামেকে চক্ষু বিভাগের সামনে দীন ইসলামের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। 

তিনি বলেন, ‘চোখ ওঠা রোগের জন্য চোখ মেলতেও পারি না আবার বন্ধ করতেও পারি না। শুধু চোখ জ্বলে। তাই সহ্য না করতে পেরে ডাক্তারের কাছে আসছি।’ শুধু তিনি নন, তাদের মতো আরও অনেককেই চিকিৎসকের রুমের সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘চোখ ওঠা সংক্রামক সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল কনজাংকটিভাইটিস বা ভাইরাল কনজাংকটিভাইটিস-দুটিই হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ভাইরাল কনজাংকটিভাইটিসই বেশি হচ্ছে। যে মৌসুমের বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, সে সময় এ রোগটা বেশি হয়। চোখ ওঠা রোগ নিরাময়ে সময় লাগে ৭-১০ দিন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের সংস্পর্শে আসা কোনো জিনিস যেমন চোখে হাত দেওয়ার পর সেই হাত যেখানেই ছোঁয়ানো হয়, টাওয়েল, রুমাল ইত্যাদি অন্যের চোখের সংস্পর্শে এলে তার মধ্যেও ছড়ায়। এ জন্য হাত ভালো করে ধুতে হবে। যাদের চোখ উঠেছে এবং তার আশপাশে যারা অবস্থান করবেন, তাদেরও সর্তক থাকতে হবে। তবে মনে হয় না করোনার সঙ্গে চোখ ওঠার কোনো ধরনের যোগসূত্র আছে?

চোখ ওঠা রোগের সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না সে প্রসঙ্গে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, আমাদের দেশে চোখ ওঠা রোগ মূলত বর্ষাকালে বেশি হয়। অন্য বছরের তুলনায় এবার প্রকোপ বেশি হওয়ায় অনেকে মনে করছে এর সঙ্গে করোনার সম্পর্ক আছে, তবে বিষয়টি সত্য নয়। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি। আর আমাদের দেশেও যারা করোনার সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাদের কাছেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, চোখ ওঠা রোগের সঙ্গে করোনা বা ডেঙ্গুর কোনো সম্পর্ক নেই। যেহেতু তীব্র ছোঁয়াচে রোগ পরিবারে একজনের হলে সবারও হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, চোখ ওঠার কারণে চোখ ফুলে যায়, ব্যথা করে এ জন্য বারবার পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। আর বেশি সমস্যা হলে বিশেষ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //