প্রাইজবন্ড পুরস্কারের ৩৫ কোটি টাকা নেয়ার কেউ নেই

জাতীয় প্রাইজবন্ড কিনেন; কিন্তু অনেকেই পরবর্তী সময়ে লটারির ড্রয়ের ফলাফল মেলান না নিয়মিত। ফলে অনেকে লটারি জেতা সত্ত্বেও এখনো তাদের পুরস্কারের দাবি করেননি।

জাতীয় সঞ্চয় বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, বিজয়ীদের প্রায় ২৩ শতাংশ গত সাড়ে তিন বছরে তাদের পুরস্কার দাবি করেননি। সে হিসাবে এবারের মোট ৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পুরস্কারের অর্থ এখনো বণ্টন হয়নি। প্রাইজ বন্ড বিজয়ীরা ফলাফল প্রকাশের দুই বছরের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ দাবি করতে পারবেন।

বাণিজ্যিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্থানীয় পোস্ট অফিসগুলো প্রাইজ বন্ড বিক্রি করে।

সঞ্চয় বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাইজ বন্ড লটারি চালু হওয়ার পর থেকে প্রাইজমানির একটি ভালো পরিমাণ অর্থের দাবিদার পাওয়া যায়নি। আগে লটারির ফল শুধু সংবাদপত্রেই প্রকাশ হতো। বর্তমানে সেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সার্চ অপশন যোগ করা হয়। সংবাদপত্র বা ওয়েবসাইটে প্রাইজ বন্ডের ফলাফল খোঁজার ঝামেলা কমাতে সরকার ‘প্রাইজ বন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার (পিবিআরআইএস)’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম বলেন, প্রচুর পরিমাণ টাকা দাবিহীন থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু ফলাফলের সাথে সাত সংখ্যার প্রাইজ বন্ড নম্বর মেলানো একটি কঠিন কাজ, তাই অনেকেই আগ্রহ দেখায় না। কখনো কখনো তারা এটি সঠিকভাবে মেলাতে পারেন না। কখনো আবার ফলাফল দেখতে ভুলে যায় বা প্রাইজ বন্ড হারিয়ে ফেলেন বলেও জানান তিনি।

সঞ্চয় বিভাগ প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর মোট ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করে মূল্যের তিন হাজার ৮২টি পুরস্কার ঘোষণা করে। প্রথম পুরস্কার ছয় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় পুরস্কার তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা। এক লাখ টাকা করে দুইটি তৃতীয় পুরস্কার, ৫০ হাজার টাকার দুইটি চতুর্থ পুরস্কার এবং ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৪০টি পঞ্চম পুরস্কার দেওয়া হয়। বছরে প্রদত্ত পুরস্কারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সঞ্চয় বিভাগ জানিয়েছে, তারা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু ৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

সঞ্চয় বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এক কোটি ৮৬ লাখ টাকার পুরস্কার এখনো কেউ দাবি করেননি।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে এ ধরনের প্রাইজ বন্ড চালু করে। প্রতিটি বন্ডের দাম তখন ১০ থেকে ৫০ টাকা ছিল; কিন্তু ১৯৯৫ সালে মূল্য সংশোধিত করে ১০০ টাকা করা হয়।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //