করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, পোশাক খাত কি প্রস্তুত

বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ এর ফলে এক সময় অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে আবার সব স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। অর্থনীতির চাকা অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমেনি। বরং এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

দেশের রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল বাংলাদেশ। গত বছরের শেষ দিকে কভিডের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে পোশাক খাতে, গত মার্চের শুরুর দিকে বড় রকমের সঙ্কট দেখা দেয় এ খাতে। কমে আসে রফতানি, ওই সময়ে অনেক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বব্যাপী যখন করোনা দ্বিতীয় ধাপের ভয়াবহতা নিয়ে আশঙ্কা করার কথা বলা হচ্ছে, তখন পোশাকখাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কভিড মোকাবেলায় বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। আর শ্রমিক নেতাদের দাবি এর ভয়াবহতার কথা ভেবে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন। সরকার ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কারখানায় উৎপাদন করতে হবে। নিরাপত্তার জোরদার করতে না পারলে কারখানা বন্ধ করাই ভালো পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতিসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বলেছে, সম্প্রতি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় পোশাক কারখানাও বন্ধ থাকা প্রয়োজন। তবে অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, করোনার দ্বিতীয় ধাপের কথা মাথায় রেখে শ্রমিকের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কারখানা খোলা রাখা যেতে পারে, এতে দেশের কথা ও জনগণের কথাও ভাবতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রম ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন, কারখানায় সম্ভব হলেও রাস্তায় বের হলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। এটা বাস্তবতা, এটা মেনেই আমাদের এগুতো হবে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ হয়তো যুক্তি দেবে, তবে অবশ্যই নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। শ্রমিকের বাড়তি নিরাপত্তা না দিতে পারলে কারখানা চালু রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আগে শ্রমিক বাঁচাতে হবে। তাকে নিরাপত্তা দিতে হবে। সব কিছু করেই আমাদের উৎপাদনে থাকতে হবে।

শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন বলেন, কারখানা বন্ধের ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এই মুহূর্তে কারখানা বন্ধের মতো অবস্থা হয়নি, সরকারের বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে যেটা সে অনুযায়ী চলা উচিত। করোনার দ্বিতীয় ধাপ আসছে, মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। আমাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। মাস্ক ও হাত ধোয়ার বিষয়টি প্রতিটি নাগরিকের মেনে নেয়া উচিত।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কোভিড মোকাবেলায় পোশাক খাতে নেয়া প্রথম পদক্ষেপ চলমান। কারখানায় প্রবেশের আগে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা আছে, মুখে সবাই মাস্ক পরে আসছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজে যোগদান করছেন। প্রতিটি শ্রমিকের শরীরে ব্লিচিং পানি ছিটানো হচ্ছে, তাদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলেও বাড়তি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh