জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের সুবিধা বাতিলের পায়তারা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা এক শিক্ষকের চাকরির অবসর সংক্রান্ত সুবিধা বাতিল করে অবসরে পাঠানোর পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্য পদের সমীকরণ মেলাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আমির হোসেন।

পরবর্তী উপাচার্যের তালিকায় যোগ্যতায় এগিয়ে থাকা সমাজবিজ্ঞান অনুষদের দুবারের নির্বাচিত এই ডিন কোনভাবেই যেন উপাচার্য হতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষক।

জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে একজন অধ্যাপকের অবসরগ্রহণের বয়সসীমা ৬৫ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক বছর তথা ৬৬ বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ‘সেশন বেনিফিট’ বাতিলের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সুবিধার আইনটি বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এমনকি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধারা এক বছর বেশি চাকরির সুবিধা পান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এ নিয়ম রয়েছে। এর আগে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এ সুবিধা ভোগ করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অধ্যাপক আমির হোসেনের চাকরির মেয়াদ এক বছর বর্ধিত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। কিন্তু মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়কে ‘শিক্ষক রাজনীতির মারপ্যাচ’ বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আমির হোসেন।

অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, সিন্ডিকেট সদস্যরা কেন রাষ্ট্রীয় নীতি ও আইনকে অবজ্ঞা করে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সকলের কাছেই স্পষ্ট। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটি আমার জন্য বেদনাদায়ক ও অসম্মানজনক। এটি স্পষ্টভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ‘পাবলিক সার্ভিস রিটায়ারমেন্ট অ্যাক্ট-২০১০’ এ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর থেকে এক বছর বৃদ্ধি করে ৬০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক (অবসর)-২০১২’ নীতিমালায়স ‘সেশন বেনিফিট’ বাতিলপূর্বক সকল অধ্যাপকের বয়স ৬৫ হলে অবসরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। ফলে ঢাবি, জাবি ও চবি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এক বছর বাড়িয়ে ৬৬ বছর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর বাড়িয়ে ৬৭ বছরে অবসর দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি। এরকম একটি জটিলতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও হয়েছিল যা এখনো চলমান। এ সম্পর্কিত একটি চিঠি আমাদের দপ্তরে এসেছে, কিন্তু আমি এখনো দেখিনি। সেজন্য সুস্পষ্টভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘দুই মাস আগে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তাতে কিছুটা ভুল ছিল। তখন অনলাইনে মিটিং হওয়ায় আমরা অনেক বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে অবগত ছিলাম না। তবে সরকারিভাবে যেহেতু এই বিশেষ সুবিধার ব্যাপারে কিছু বলা নেই। তাই এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কি করছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি উপাচার্যের কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে উপাচার্য মিটিংয়ে আছেন, এখন কোনভাবেই দেখা করা সম্ভব নয় বলে জানান উপাচার্যের সচিব মো. ছানোয়ার হোসেন।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //