হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ওই হলের আবাসিক ছাত্রীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে হলের সামনে অবস্থান নিয়েছে হলের ছাত্রীরা। ঘটনার সাড়ে তিনঘণ্টা পার হলেও হলে উপস্থিত হননি প্রভোস্ট অধ্যাপক নাহিদ হক।

শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বাজে ক্যান্টিন বন্ধ করে নতুন ক্যান্টিন চালু, ডাইনিংয়ের খাবারের মান বাড়নো, হল সংস্কারের নামে দীর্ঘ সূত্রিতার দ্রুত অবসান ও সংস্কার কার্যক্রম যথাযথ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা, নতুন নতুন নিয়মের নামে ছাত্রীদের হয়রানি বন্ধ, হল পূর্ণরূপে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা ও রিডিং রুম নির্মাণ।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী সুলতানা আফরিন টুম্পা বলেন, এর আগে দুই হল থেকে বিতাড়িত ‘কালুর ক্যান্টিন’ কে আমাদের হলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ক্যান্টিন এতোটাই অপরিষ্কার থাকে যে বসে খাবার খাওয়া দায়। ক্যান্টিনের বিষয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষকদের সাথে সরাসরি কথা বলা হলেও কোনো লাভ হয়নি। আমদের কোনো সমস্যাতেই কখনো প্রভোস্ট সামনে আসেনি। তাকে কখনো আমাদের প্রয়োজনে হলে পাওয়া যায় না।’

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণী আক্তার বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া ক্যান্টিনের মালিকের মেয়ে সুইটির আচরণ খুবই খারাপ। তিনি তুই-তুকারি করে কথা বলেন। এছাড়াও হলের সংস্কার কাজে দীর্ঘ সূত্রিতার জন্য শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য হল প্রভোস্টকে আমরা হলে পাই না।’

হলের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হলের সংস্কার কাজে পরামর্শক হিসেবে উক্ত হলের সুপারের স্বামীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেসব লকার ও রুম অনেকটা ঠিকঠাক আছে জোর করেও শুধুমাত্র খাতা-কলমে দেখানোর জন্য সেসব রুম সংস্কার করা হচ্ছে।  এসব নাটকীয়তার অবসান জরুরি৷

দাবিগুলো সম্পর্কে হলের ওয়ার্ডেন ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দাবিগুলো সম্পর্কে আমরা কিছুদিন আগে অবগত হয়েছি। শুধু তিন মাসের জন্য হলের নতুন ক্যান্টিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর ক্যান্টিন কর্মচারীর খারাপ আচরণের কথা আজই জানানো হয়েছে।

এদিকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হন। শিক্ষার্থীদের সাথে তার বাকবিতণ্ডা চলে।

উল্লেখ্য, কালু মামার ক্যান্টিন গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলে ছিল। কিন্তু সেখানে পচা খাবার পরিবেশন করার অভিযোগে তাদের পরিবর্তন করা হয়। এরপর তারা ফজিলাতুন্নেছা হলে যান। সেখানেও রমজান মাসে পচা খাবার পরিবেশন ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করায় সকল শিক্ষার্থীর সম্মতিতে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //