রানওয়েতে ঘন কুয়াশা সামলাতে নেই উন্নত প্রযুক্তি

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিমানগুলোকে সকালে ঘন কুয়াশার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে চক্কর মেরে শঙ্কা কাঁটার পর অবতরণ করতে হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। শীতকালে কুয়াশা বাড়লে শাহজালালে এটা প্রায় প্রতিদিনের চিত্র। তবে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করা হলে এ সমস্যা সহজেই সমাধান হতো।

সাধারণত ফ্লাইট অবতরণের সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে দেখতে না পেলে পাইলট আকাশে চক্কর দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে অবতরণের জন্য বিমানবন্দরগুলোতে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে পাইলট সহজে রানওয়ে শনাক্ত করে নিরাপদে অবতরণ করতে পারেন। 

জানা গেছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশা বা প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য ‘ইনস্ট্রুমেন্টস ল্যান্ডিং সিস্টেম-আইএলএস-১’ অনেক আগে স্থাপন করা হলেও ঘন কুয়াশায় তা কাজ করছে না। ফলে অবতরণ করতে না পেরে পাইলটকে কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। পরে রানওয়ে দেখতে পেলে ফ্লাইট অবতরণ করান তিনি। না দেখতে পেলে কাছাকাছি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন। এ পরিস্থিতিতে শাহজালালে প্রতিদিন ফ্লাইট অবতরণ বা উড্ডয়নে বিঘ্ন ঘটছে। দেরিতে ফ্লাইট ছাড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদেরও। সময়মতো গন্তব্যে যেতে না পেরে কেউ কেউ কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে পারছেন না।

আরো জানা গেছে, শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নয়, অভ্যন্তরীণ কোনো বিমানবন্দরে এ প্রযুক্তি কার্যকর না থাকায় সেখানকার যাত্রীরাও ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি সৈয়দপুরে নামতে না পেরে দুটি ফ্লাইট ফিরে আসে শাহজালালে।

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত এলেই শাহজালালে কুয়াশার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্লাইট বিপর্যয় ঘটে। গত কয়েক দিন ধরে চার থেকে ছয় ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘন কুয়াশাতেও প্রতিনিয়ত ফ্লাইট ওঠানামা করে। কারণ তাদের রয়েছে উন্নত আইএলএস প্রযুক্তি। সময়মতো অবতরণ করতে না পারায় ফ্লাইট শিডিউলে বিঘ্ন ঘটছে। বাড়ছে ভোগান্তি, ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। যা উড়োজাহাজ মালিকদের পকেট থেকেই যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করলে সহজেই পুরো সমস্যার সমাধান হতো।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া কোনোটিতেই বৈরী আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামার উন্নত আইএলএস প্রযুক্তি নেই। যে তিনটি বিমানবন্দরে এ প্রযুক্তি আছে তাও অনেক পুরনো। ফলে ঘন কুয়াশা কিংবা ঝড়-বৃষ্টির কারণে দৃষ্টিসীমা কমে এলেই বিঘ্নিত হয় উড়োজাহাজ চলাচল। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে আইএলএস প্রযুক্তি রয়েছে তার দৃষ্টিসীমা ৬০০ মিটার। শীতকালে ঘন কুয়াশায় প্রায়ই বিমানবন্দরের রানওয়েতে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৫০ থেকে শূন্য মিটারে। ফলে পুরনো আইএলএস-১ দিয়ে ফ্লাইট ওঠানামা করানোয় বিঘ্ন ঘটছে।

বৈরী আবহাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইএলএস-২, আইএলএস-৩, আইএলএস-৩-এ-বি-সি ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে তার খরচও তত বেশি হবে। শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে আইএলএস-২ প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে। এটার দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটার পর্যন্ত। তখন এ সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে। তবে আইএলএস-৩ স্থাপন করলে কোনো সমস্যাই থাকবে না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিমানবন্দর কর্মকর্তা।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //