দুর্ঘটনার পরেই টনক নড়ে রাজউকের

ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)। অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। যদিও ঢাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ঠিক কতগুলো ভবন নির্মিত হয়েছে, তা জানা নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)।

ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন এবং নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর পরই টনক নড়ে রাজউকের। ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুসন্ধানে রাজধানীতে নির্মিত বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। তবে ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর থেমে গেছে সে উদ্যোগ। গত নভেম্বরের পর থেকে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত আর কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। ফলে কার্যক্রমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি বেইলী রোড ট্রাজেডির পরে আবারো আলোচনায় এসেছে নগরীর ভবন গুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে। জানা গেছে, রাজউকের ২৪টি দল ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর ১ হাজার ৪৭টি ভবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছিল। এছাড়া অনুমোদিত নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন ৪৭৮টি ভবনের মালিক। এরপর পরিদর্শনে নির্মাণ ত্রুটি পাওয়া ভবন মালিকদের নোটিশ দেয় রাজউক। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পর ভবন মালিকরা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তদারকি পরিচালনা করেনি সংস্থাটি।

অভিযোগ আছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র নেয়ার ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেন রাজউকের একশ্রেণীর কর্মকর্তা। অনেক ক্ষেত্রে ইমারত মালিক ও নির্মাতারাও জানেন না এসব ছাড়পত্র ভুয়া। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা এসব নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন। অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান আবার অনুমোদনের অতিরিক্ত উচ্চতার ভবনও তৈরি করে। এসব অভিযোগে রাজউকের বেশকিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিয়মকানুন না মেনে গড়ে ওঠা রাজধানীর কতটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই নেই। অথচ বিল্ডিং কোড মেনে চলাকে বিধিভুক্ত নিয়ম বলেই জানালেন বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক আশরাফুল আলম।

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অঞ্চলভিত্তিক সমীক্ষা করে প্রায় ৭০ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিল্ডিং কোড যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীতে বহুতল ভবনের ৯০ শতাংশ ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এজন্য ভবন নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগ খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করার পর তা ব্যবহার বা বসবাসের জন্য সনদ নিতে হবে। এ সনদ পাওয়ার আগে ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার বা বসবাস-সনদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এ সময়ের পর এটি বাধ্যতামূলকভাবে নবায়ন করতে হবে। এরই মধ্যে আইন চালুর ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এই ১০ বছরে ৪০ হাজারের বেশি ভবন নির্মাণ হয়েছে রাজধানীতে। অথচ রাজউক থেকে এ ধরনের সনদ নেয়া ভবন নির্মাতার সংখ্যা খুবই কম।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //