খেলোয়াড়ের বদলে থ্রোয়ার

আইপিএলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সেন্টু

আর কে সেন্টু

আর কে সেন্টু

ক্রিকেটের মধ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ক্রিকেট দুনিয়ার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই অপেক্ষায় থাকেন এখানে খেলতে। প্রথমবারের মতো দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মারকাটারি ক্রিকেটের এই আসর। 

সেখানে খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি নেই। সাকিব আল হাসান থাকতে পারছেন না নিষেধাজ্ঞার কারণে। পাশাপাশি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে খেলার প্রস্তাব আসে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে; কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে অনুমতি না পাওয়ায় খেলা হয়ে ওঠেনি মিস্টার ফিজের। মুম্বাই এ লাসিথ মালিঙ্গা আর কলকাতায় জেমস প্যাটিনসনের বদলি হিসেবে খেলার অফারও ছিল তার; কিন্তু কাটার মাস্টারের ভাগ্যে এবার শিকে ছেঁড়েনি। আইপিএলে খেলার চেয়ে জাতীয় দলের খেলাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়েছিলেন। সেবার ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেরা উদীয়মান বিদেশি খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন। পরের দুই মৌসুমেও খেলেছিলেন। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেললেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়বিহীন আইপিএলে এবার চমক হয়ে দেখা দিয়েছেন আর কে সেন্টু। সানরাইজার্স হায়দারাবাদে থ্রোয়ার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সাইড আর্ম এই থ্রোয়ার মোস্তাফিজ ও সাকিবের পুরনো দলে কাজ করছেন। মূলত বাংলাদেশ জাতীয় দলের কম্পিউটার এনালিস্ট শ্রী নিবাস চন্দ্র শেখরের কারণেই সেন্টু এমন সুযোগ পেয়েছেন। টাইগারদের কোচ হওয়ার পাশাপাশি হায়দারাবাদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে চন্দ্র শেখরের। সেই সুবাদেই সেন্টুর সুযোগ মিলেছে। 

থ্রোয়ার হিসেবে একই দলের সাথে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল বুলবুল আহমেদেরও; কিন্তু শ্রীলংকা সফরে তাকে দলের সাথে পেতে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়নি বিসিবি। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ভারতে এবারের আসর আয়োজনের সাহস দেখায়নি বিসিসিআই। মূলত আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি যাতে হতে না হয়, সেজন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতের সার্বিক পরিস্থিতিতে আরো কয়েক মাস ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

নানা কারণেই এবারের আইপিএল একটু আলাদা। সেন্টুরাই যার প্রমাণ বহন করে চলেছেন। আইপিএলে কাজ করতে পারলে আর্থিকভাবে বুলবুলের লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল। পরবর্তী তিন বছরের জন্য সানরাইজার্স হায়দারাবাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সুযোগও ছিল তার সামনে। অনুশীলনের সময় ব্যাটসম্যানদের সহযোগিতার জন্য নেট বোলারের পাশাপাশি থ্রোয়ারদেরও প্রয়োজন হয়। ডগস্টিক হাতে নিয়ে ব্যাটসম্যানদের বল ছোড়েন তারা। দ্রুতগতিতে বল থ্রো করায় সেন্টুর বেশ খ্যাতি রয়েছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিপিএল ফ্রাঞ্চাইজি ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবে নিয়মিতই কাজ করেন তিনি। আইপিএল মানেই নতুন কিছু! এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতি বছরই থাকে নানা নতুনত্ব। 

নানা নাটকীয়তার পর বিডিংয়ে আরো কয়েকটি নামিদামি কোম্পানি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ড্রিম ১১ আইপিএল কর্তৃপক্ষকে ২২২ কোটি রুপি দিয়ে স্পন্সরে নাম ওঠায়। এ দিকে করোনার কারণে এবারের আইপিএলে খেলোয়াড়দের মানতে হবে একাধিক নিয়মও। যেটা অতীতে ছিল না। বল শাইনিংয়ের জন্য কোনো বোলার মুখের লালা বা এ জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করতে পারবে না। সব ম্যাচই হবে ক্লোজডোরে। টসের পর দুই দলের ক্যাপ্টেন হাত মেলাতে পারবে না। পায়ের নো ধরবেন থার্ড আম্পায়ার। আর ম্যাচ চলাকালে, আগে বা পরে যদি কোনো দলের খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে তার বদলি নিতে পারবে ওই টিম। 

সব মিলিয়ে অনেক নতুনের আইপিএল শুরু হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে। এবারের আসরকে ‘এরাবিয়ান আইপিএল’ হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সব মিলিয়ে নতুন এক আসরই দেখছেন দর্শকরা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh