বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ

কোনো দলে স্থান হলো না নাফিস, রাজ্জাকদের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করেও ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। অক্টোবরে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফেরার লক্ষ্য থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি। 

কোয়ারেন্টিন নিয়ে অতিমাত্রায় কড়াকড়ি করার কারণে দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত ঘোষণা করা হয় এই সফর। অথচ ইংল্যান্ডের জন্য কোনো কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাই রাখা হয়নি! বাংলাদেশের জন্য এক নিয়ম আর ইংলিশদের জন্য আরেক নিয়ম করা হয়েছে। সে কারণে বিলম্ব হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজের অপেক্ষা না করে দেশে পুরোদমে ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে এখন। 

প্রেসিডেন্ট কাপ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ শুরু হওয়ার পর এখন অপেক্ষা বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের। আগামী ২৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে এ আসর। আর এ সবকিছুর মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর প্রস্তুতি। 

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে অনেকটা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএলের মতো করেই প্লেয়ার্স ড্রাফটের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে পাঁচটি দল অংশ নেবে। শুধু দেশীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত হবে এই আসর। প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে ‘এ’ গ্রুপে থাকা সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ডাক পেয়েছেন জেমকন খুলনা থেকে, মুশফিকুর রহিমকে নিয়েছে বেক্সিমকো ঢাকা, মোস্তাফিজুর রহমানকে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ও তামিম ইকবাল ফরচুন বরিশাল, মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে রিয়াদকে খুলনা, লিটন দাসকে চট্টগ্রাম, আফিফ হোসেনকে বরিশাল, রুবেল হোসেনকে ঢাকা ও মেহেদী হাসানকে রাজশাহী দলে নিয়েছে। এভাবেই সম্পন্ন হয়েছে প্রথমবারের আয়োজিত এই আসরের ড্রাফট।

১৫ লাখ টাকা দামি পাঁচ তারকা খেলোয়াড়রা হলেন- সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ ও মোস্তাফিজ। জেমকন খুলনা সর্বোচ্চ এক কোটি ১৪ লাখ টাকার দল গড়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশালের এক কোটি ১৩ লাখ করে ও রাজশাহীর এক কোটি দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে খেলোয়াড়দের কিনতে। 

সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের, বি-গ্রেডের পারিশ্রমিক ১০ লাখ, সি-গ্রেডে ছয় লাখ এবং ডি-গ্রেডের ক্রিকেটাররা পাবেন চার লাখ টাকা করে। পাঁচটি দল সর্বোচ্চ ১৬ জন করে ক্রিকেটার দলে নিতে পেরেছে। ড্রাফটে থাকা ১৫৭ ক্রিকেটারের মধ্যে সুযোগ হয়নি ৭৭ জনের। ড্রাফটে ডি-গ্রেডে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়েছে রাজশাহী। অনূর্ধ্ব-১৯-এর আলোচিত ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমকে পেয়েছে ঢাকা। 

তবে ফিটনেস পরীক্ষায় ভালো করলেও কোনো দলে জায়গা হয়নি শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুর রাজ্জাক, জুনায়েদ সিদ্দিকী ও এনামুল হক জুনিয়রের। 

টুর্নামেন্টের বিষয়ে বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদের নতুন করে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আশা করি, ভালো একটা টুর্নামেন্ট হবে। প্রতিটি দলকে ভারসাম্য মনে হয়েছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটার আছে সব দলে। টুর্নামেন্ট ভালোই জমবে।’ 

আসরের ড্রাফট হয়েছে বিপিএলের নিয়মেই। লটারির ভিত্তিতে দলগুলো ডাকার সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম রাউন্ডে যে দল সবার আগে ডাকে, দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা ডাকে সবার পরে। আবার প্রথম রাউন্ডে যারা সবার পরে ডাকে, পরের বার তারা ডাকে সবার আগে। এভাবে ক্রম ঠিক করা হয়েছে। সব মিলে আটটি রাউন্ড হবে, যার মানে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ১৬ জন ক্রিকেটারকে দলে নিতে পেরেছে। সব মিলে একটি দলের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৯ লাখ টাকার দায়িত্ব নেবে বিসিবি। কোনো দলের বেতন এর বেশি হয়ে গেলে সেই দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার এই টুর্নামেন্ট নিয়ে তাই অনেক বেশি আশাবাদী বিসিবি। নিজেদের সুরক্ষার মধ্যে রেখেই সবকিছু করা হবে। এ ছাড়া পাঁচ দলে থাকবে কভিড হেলথ অফিসিয়াল।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh