বঙ্গবন্ধু টি-২০: দর্শকবিহীন গ্যালারি

ফাইল ছবি: স্টার মেইল

ফাইল ছবি: স্টার মেইল

প্রেসিডেন্ট কাপ দিয়ে করোনা-পরবর্তী সময়ে মাঠে ক্রিকেট ফিরেছে। এখন শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। প্রথম আসরের মতো দ্বিতীয় আসরটিও দর্শকবিহীন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

অনেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরানোর অংশ হিসেবেই এই আসরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে শুরু করে দল নির্বাচন করা সবই বিসিবি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসিবি নিজেরা সবকিছু দেখভাল করছে। 

সেখানে এবার তরুণদের জ্বলে ওঠার দারুণ এক সুযোগ অপেক্ষা করছে। কারণ বিদেশি ক্রিকেটারবিহীন এই টুর্নামেন্টে যা কিছু করার সবই দেশীয় ক্রিকেটাররা করছেন ও করবেন। ১৫৭ ক্রিকেট নিয়ে প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে দল পেয়েছেন ৮০ ক্রিকেটার। ঘর গুছিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে এখন ময়দানি লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন। 

বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে ২৪ নভেম্বর শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ টুর্নামেন্ট। প্রাথমিক পর্বে প্রতি দল পরস্পরের মুখোমুখি হবে দুইবার করে। টুর্নামেন্টের মোট ম্যাচ ২৪টি। প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি ম্যাচ ডেতে খেলা হবে দুটি করে, প্রতি ম্যাচ ডের পর বিরতি একদিন করে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ। প্রথম পর্ব শেষে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচ হবে ১৪ ডিসেম্বর ও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ১৫ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে আসরের সমাপ্তি হবে। তবে ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। 

অন্যান্য টুর্নামেন্টে তরুণ ও উঠতি ক্রিকেটারদের সুযোগ থাকে সামান্যই! এবার সেই সুযোগটাকে দারুণভাবে কাজে লাগাতে চান তারা। বিদেশি ক্রিকেটার না থাকায় নাঈম শেখ, তানজিদ তামিম, তৌহিদ হৃদয়, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয় ও পারভেজ হোসেনদের জন্য বড় সুযোগ বিদেশি না থাকাটা। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল পেয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ ক্রিকেটার।

গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অনেকে যেমন আছেন এই তালিকায়, আছেন উঠতি আরো বেশ ক’জন ক্রিকেটার। নতুন ক্রিকেটার উঠে আসা নিয়ে বিসিবি পরিচালক ও বেক্সিমকো ঢাকার প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘করোনাভাইরাস তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিয়েছে এমন টুর্নামেন্টে খেলার। এই আসর তরুণদের জন্য হতে পারে নিজেদের মেলে ধরার বড় জায়গা। বিপিএলে হয়তো আমাদের অনেক ক্রিকেটার নিজের পজিশনে ব্যাট করতে পারে না বা ডেথ ওভারে কিংবা ভালো জায়গায় বোলিং করতে পারে না। এবার সেই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগাবে তরুণরা- এটাই আমার বিশ্বাস’। 

এক ঝাঁক তরুণ দল পেলেও বেশ কয়েকজন তারকা সিনিয়র ক্রিকেটার কোনো দল পাননি। বিপিএলে কয়েক মৌসুম ধরে সুযোগ পান না আবদুর রাজ্জাক। শাহরিয়ার নাফিস সুযোগ পাননি গত আসরে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে দল পাননি জুনায়েদ সিদ্দিক, এনামুল হক জুনিয়র, নাঈম ইসলাম ও এক সময় টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বলে বিবেচিত নাদিফ চৌধুরীও। 

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতদের মধ্যে এ আসরে দল না পাওয়া উল্লেখযোগ্যরা হলেন- তানবীর হায়দার, মেহেদি মারুফ, মাহমুদুল হাসান, মিজানুর রহমান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মোহাম্মদ আল আমিন, সাদমান ইসলাম ও মনির হোসেন। দুই লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রিশাদ হোসেন দল পেলেও কোনো দল আগ্রহী হয়নি অন্য দুই লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি ও জুবায়ের হোসেন লিখনের প্রতি। ফিটনেস পরীক্ষায় উতরাতে না পারায় ড্রাফটেই জায়গা হয়নি সোহাগ গাজী, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানিদের। তবে সেখানে ব্যতিক্রম বলা যেতে পারে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। এই আসর ব্যাটসম্যানদের অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। 

ক্রিকেটারদের মধ্যে আলাদা নজর থাকবে সাকিবের ওপর। সাকিব সর্বশেষ ক্রিকেট ম্যাচ খেলেন ২০১৯ সালের অক্টোবরে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল)। ১৩ মাস পর তিনি ফিরছেন ক্রিকেটে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার কেমন করবেন, অপেক্ষায় গোটা দেশ। সব মিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো করার দারুণ এক উপলক্ষ হতে পারে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh