সাকিব বীরত্বে সিরিজ জয়

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিফটি তুলে নেন সাকিব আল হাসান

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিফটি তুলে নেন সাকিব আল হাসান

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করলেও পরবর্তীতে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। তবে সাকিবের বীরত্বে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

আফিফ হোসেন ধ্রুব যখন আউট হয়েছেন, ১১ ওভারে তখনও ৬৮ রান দরকার বাংলাদেশের। হাতে মাত্র ৩ উইকেট। একমাত্র ভরসা সাকিব আল হাসান। সাকিব কি পারবেন এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে জেতাতে?

শঙ্কা ছিল, দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন টাইগার সমর্থকরা। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তো তিনি এমনি এমনি হননি! কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় দলকে বের করে আনলেন, রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে শেষ ওভারে এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়।

লক্ষ্য ২৪২ রান। মাঝারি রান তাড়ায় শুরুটা খারাপ ছিল না তামিম ইকবাল আর লিটন দাসের। ৯.৩ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলেন ৩৯ রান। প্রথমে আউট হন তামিম।

লুক জঙউইকে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে সিকান্দার রাজার দুর্দান্ত ক্যাচ হন, ৩৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক তখন ২০ রানে। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও।

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবার উচ্চাভিলাষী পুল খেলতে গিয়ে টপএজ হন। মিডঅনে সহজ ক্যাচ নেন ব্রেন্ডন টেলর। ৩৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান।

সেখান থেকে দলকে ভরসা দেবেন কি, উল্টো বিপদে ফেলে যান মোহাম্মদ মিঠুন। পরের ওভারেই জঙউইকে উইকেট উপহার দেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। শরীরের বাইরে খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ক্যাচ দেন (৩ বলে ২) মাদভেরেকে। ৫০ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর মোসাদ্দেক হোসেন হন দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার। ১৯তম ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে এনগারাভার ওয়াইড বলটি উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাভার হাত ফসকে গেলে এক রান নিতে চান মোসাদ্দেক, সাকিবও দৌড় দেন। কিন্তু মোসাদ্দেক (৫) স্ট্রাইকার এন্ডে পৌঁছানোর আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে দেন চাকাভা।

৭৪ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে এরপর টেনে তোলার দায়িত্ব নেন সাকিব আর বরাবরের বিপদের ভরসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তারা।

শেষ পর্যন্ত এই জুটিটি ভেঙেছে মাহমুদউল্লাহ (৩৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬) কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে। আবার বিপদ ফেরত আসে বাংলাদেশের।

প্রমোশন পেয়ে ওপরে চলে এসেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মাদভেরেকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মায়ের্সের ক্যাচ হন এই অলরাউন্ডার, মাত্র ৬ রান করে।

আফিফ হোসেন ধ্রুব উইকেটে এসে সাকিবকে সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে সিঙ্গেলস-ডাবলসে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ২৩ বলে কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই ১৫ রান করা আফিফ শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে গিয়েই আউট হয়েছেন। সিকান্দার রাজাকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েছেন।

এরপর সাইফকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান সাকিব আল হাসান। সাকিব ৯৬ ও সাইফের ২৮ রানের সুবাদে জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে শুরুতেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে উইকেট হারায় দলটি। ৫ বলে ১ রান করেন কামুনহুকামউই। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট অব লেংথের বলে কাট করেছিলেন দলে ফেরা এই ওপেনার। ঠিকমতো খেলতে পারেননি। তাসকিনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ মুঠোয় জমান আফিফ হোসেন।

দলীয় ২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। এসেই মিরাজের আঘাত। ৭ ও ১১ রানে জীবন পাওয়া টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করে দেন তিনি। অফ স্পিনারের অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বল ক্রস ব্যাটে খেলেন মারুমানি। পারেননি বলে-ব্যাটে করতে। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। দুই চারে ১৮ বলে ১৩ রান করেন মারুমানি।

চাকাভা ও টেইলর দলকে টেনে নিতে থাকেন। শেষ অবধি এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। বোল্ড চাকাভা। মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথের বলের লাইন মিস করেন চাকাভা। প্যাড ছুঁয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ৪৭ রানের জুটি। ৩২ বলে দুই চারে ২৬ রান করেন চাকাভা।

দলীয় ১১১ রানে বিদায় নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেইলর। আগে একবার পিছিয়ে গিয়ে খেলার চেষ্টায় পা থেকে জুতা খুলে গেলেও একটুর জন্য হিট উইকেট হননি ব্রেন্ডন টেইলর। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুর্ভাগ্যজনক আউট হয়েই ফেরেন তিনি।

শরিফুল ইসলামকে অনেকবারই আপার কাট করার চেষ্টা করছিলেন টেইলর। ২৫তম ওভারে আবার সেই একই চেষ্টায় ব্যর্থ হন। কট বিহাইন্ডের আবেদন করে বাংলাদেশ। পরে আবার সেই শটের শ্যাডোর মতো করতে গিয়ে বেলস ফেলে দেন টেইলর।

রিপ্লেতে দেখে তাকে হিট উইকেট দেন আম্পায়ার। ৫৭ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রান করেন টেইলর। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি চতুর্থ হিট উইকেটের ঘটনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সপ্তম।

এরপর রক্তাক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। বল-ব্যাটের মাঝে পড়ে কেটে যায় এই অফ স্পিনারের আঙুল। মিরাজের বল বোলারের দিকেই ফেরত পাঠান ওয়েসলি মাধেভেরে। নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান ডিওন মায়ার্স অহেতুক এগিয়ে রেখেছিলেন ব্যাট। তৎপর মিরাজ ফিল্ডিং করতে গেলে তার ডান হাত পড়ে যায় বল-ব্যাটের মাঝে। এত বেশ ব্যথা পান মিরাজ, তার আঙুলও কেটে যায়। ফিজিও মাঠে আসার পর তার সঙ্গে মাঠ ছাড়েন মিরাজ।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার মায়ার্স। আবারও আশা জাগিয়ে থেমে গেল জিম্বাবুয়ের একটি জুটি। লং অন দিয়ে সাকিবকে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন মায়ার্স। পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। কিছু বায়ে সরে গিয়ে ক্যাচ মুঠোয় নেন মাহমুদউল্লাহ। ভাঙে ৩৫ রানের জুটি। টানা চার উইকেটে ৩০ রানের জুটি পায় জিম্বাবুয়ে।

৩৩ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৭। ক্রিজে ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গী সিকান্দার রাজা। আট মাস পর দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামেন তিনি। তিনি করেন ৩০ রান। বিদায় নেন সাইফউদ্দিনের বলে। একমাত্র ফিফটি আসে মাধেভেরের ব্যাটে। ৬৩ বলে ৫৬ রানে তিনি শরিফুলের শিকার। ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় ফিফটি তার, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়। লোয়ার অর্ডারে কেউ তেমন রান করতে পারেনি।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে আলো ছড়ান তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম। ১০ ওভারে ৪৬ রানে চারটি উইকেট নেন তিনি। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এটি তার। সাকিব নেন দুই উইকেট। মিরাজ, সাইফউদ্দিন ও তাসকিন নেন একটি করে উইকেট।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //