৪০০ রানের আগেই থামলো শ্রীলঙ্কা, ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ব্যাটে ভর করে ৩৯৭ রানে থেমেছে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ। বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন নাঈম হাসান। আর সাকিব আল হাসান নিয়েছেন তিনটি উইকেট। শ্রীলঙ্কা অল আউটের পর ব্যাটে নেমেছে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৬ রান। ২৮ বলে ১৬ রান করে তামিম ও ৩৩ বলে ১১ রান করে ক্রিজে আছেন মাহমুদুল হাসান জয়।

চার উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে শ্রীলঙ্কা। দিনের শুরুতে শরিফুল ইসলাম, সাকিবরা বোলিং আক্রমণে আসেন। কিন্তু দেড়শ'র দ্বারপ্রান্তে থাকা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস এবং হাফ সেঞ্চুরির আশায় থাকা দীনেশ চান্দিমাল বেশ দেখেশুনেই খেলেন তাদের।

স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে স্কোরবোর্ডে রানও বাড়িয়ে যান তারা। যদিও চতুর্থ ওভারেই ম্যাথুসকে ফেরানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিছু না বুঝেই সুযোগটি হাতছাড়া করে তারা। খালেদ আহমেদের লেংথ বলে আলতো করে খোঁচা দেন ম্যাথুস। তার ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। যদিও কেউ না বোঝায় আউট দেয়ার আবেদন করেননি।

বরঞ্চ খালেদ-লিটন আর অধিনায়ক মুমিনুল হক ভেবেছিলেন, অল্পের জন্য ব্যাটে বল লাগেনি ম্যাথুসের! ম্যাচের প্রথম দিন ৬৯ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়কে ক‍্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন ম্যাথুস। দেশেশুনে খেলা ম্যাথুস ও চান্দিমাল শতরানের জুটি পূর্ণ করেন।

ইনিংসের ১১৪ তম ওভারে পাঁচ বলের ব্যবধানে চান্দিমাল ও ডিকওয়েলাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার আগ্রাসী মনোভাবে লাগাম দেন নাঈম। ম্যাথুস-চান্দিমালের ১৩৬ রানের অসাধারণ জুটিটি ভাঙেন নাঈম। এই স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন চান্দিমাল।

এরপর অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন চান্দিমাল। যেখানে দেখা যায়, নাঈমের বল চান্দিমালের ব্যাটে লাগেনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। ১৪৮ বলে খেলা ৬৬ রানের এই ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। চান্দিমালকে ফেরানোর পর চটজলদি নিরোশান ডিকওয়েলাকেও ফেরান নাঈম।

সেই ওভারের পঞ্চম বলে ডিকওয়েলাকে সরাসরি বোল্ড করে ফেরান তিনি। এই উইকেটরক্ষকের ব্যাটে আসে ৩ রান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফিরেই দ্বিতীয় বলে রমেশ মেন্ডিসকে বিদায় করেন সাকিব। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কুইকার বুঝতেই পারেননি রমেশ। ফিরে যান এক রান করে।

তার পরের বলেই লাসিথ এম্বুলদেনিয়াকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন এম্বুলদেনিয়া। ৩২৮ রানের মধ্যে আট উইকেট ফেলে দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ।

এরপর সাকিব, নাঈমদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান বিশ্ব ফার্নান্দো। দেখেশুনে খেলে দেড়শ রান পার করা ম্যাথুসকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তিনি। বিশ্বকে অবশ্য ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। তার সহজ একটি ক্যাচ ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম।

সাকিবের বলে মিড অনে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন বিশ্ব। তা লুফে নিতে ব্যর্থ হন মুশফিক। দেখতে দেখতে ৭৭ বল খেলে ফেলেন তিনি। যদিও তাকে আউট করতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো বোলার। শরিফুলের একটি শর্ট বল তার মাথায় লাগলে আহত হন বিশ্ব।

এরপর চা বিরতি শেষে আর মাঠেই আসেননি তিনি। রিটায়ার্ড হার্ট হয়েই মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো বাঁহাতি এই পেসার। চা বিরতির পর মাঠে নামেন তার বদলি ক্রিকেটার অসিথা ফার্নান্দো। যদিও তার ইনিংস লম্বা করতে দেননি নাঈম।

লঙ্কান এই ব্যাটারকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার তুলে নেন তিনি। এরপর ডাবল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা ম্যাথুস উড়িয়ে মারতে গিয়ে নাঈমের বলে স্কয়ার লেগে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১ রানের আক্ষেপে পুড়েছেন।


Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //