আইপিএল ও ফেক কনফিডেন্স

ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগ দেখে পিলে চমকে যাচ্ছে ক্রিকেট রোমান্টিকদের। চলতি বছর কুড়ি ওভারের এই টুর্নামেন্টে হারহামেশা দুশোর বেশি রান হচ্ছে। আবার পরে ব্যাট করতে এসে প্রতিপক্ষ রান তাড়া করে জিতেও যাচ্ছে। ২৫০ রানও নিরাপদ না। ভারতের কিউরেটররা ফ্ল্যাট উইকেট বানিয়েছেন। এখানে বোলাররা দেয়ালে মাথা ঠুকবে উইকেটের জন্য। তাদের কোনো সাহায্য নেই একেবারে। শুধু ব্যাটসম্যান ও রানের জন্যই এই আসর।

সিনেমার চিত্রনাট্য এমন থাকবে না যখন এই আসরের ক্রিকেটাররা নিজ দেশে ফিরে যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য। আইসিসির গাইডলাইনে এমন পিচের উল্লেখ নেই। আইপিএলের এই ‘ফেক’ কনফিডেন্স নিয়ে খেলতে গিয়ে তারা নিজে তো বটেই; দলকেও ডোবাবেন বিশ্ব আসরে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২-৩ বলেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায়। মেধার অবিশ্বাস্য খেলা এখানে। 

আইপিএল নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। আবার মুগ্ধতাও আছে। ধারাভাষ্যকার, টেলিভাইজড প্রক্রিয়া, স্টেডিয়ামে হরেক আয়োজন ও আলোর ঝলকানি মানুষকে টেনেছে। বর্তমানে এমন রানের ফোয়ারা দেখে সবার মুখ ‘হাঁ’ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আইপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় রান করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (২৮৭ রান, বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে)। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, বিশাখাপত্তনম, দিল্লি, চেন্নাই, ইন্দোর, ধর্মশালা ও ইডেন গার্ডেনস-সব ভেন্যুতে রানের ছড়াছড়ি। বাংলাদেশের ক্রিকেটার বোর্ড কর্মকর্তারাও পর্যবেক্ষণ করছেন। যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাবা যায়! আইপিএলে ২০০-২৫০ রান কোনো কিছুই না। অপজিশনও তাড়া করে জিতে যাচ্ছে।’

একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান খেলেছেন আইপিএলে। তিনি পুরো মৌসুম খেলতে পারেননি। তার ছুটি কমিয়ে দেওয়া হয় ওয়ার্কলোডের জন্য। সামনে আবার বিশ্বকাপ রয়েছে। আরও দুজনে চোখ ছিল আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে নিতে চেয়েছিল তারা। ইনজুরিতে বারবার পড়ায় শঙ্কা জন্ম দেয় এ দুজন। ক্রিকেট বোর্ড ভেবেছে বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়লে বিপদ। তাসকিনের আফসোস নেই। তিনি আইপিএল দেখছেন। বাংলাদেশে এত রান হবে না। এটা স্বীকার করে নিয়েছেন। 

আইপিএলে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বোলারদের নানা কায়দা-কানুন করে রানের গতি থামানোর চিন্তা করতে হচ্ছে। অবশ্য এতে তাদের স্কিল গ্রো করছে। অন্যদিকে ব্যাটসম্যানরা নানা শটের আবিষ্কার করে বসে আছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে পিচ ও কন্ডিশন এমন থাকবে না। ফলে ওই ধরনের শট খেলতে গেলে আত্মঘাতী হবে। টাইমিং নাও হতে পারে। আবার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট বিলিয়ে এসে সাজঘরে মাথা চাপড়াতে হবে। 

ক্রিকেটারদের মনোজগৎ ভিন্ন। অন্য খেলার চেয়ে আলাদা পরিবেশ। আইপিএলে কিছুদিনের জন্য তারা হারিয়ে যায় অন্য জগতে। এই ক্রিকেটেও অনেক কিছুকে যোগ করা হয়েছে। টাকার ছড়াছড়ি করে অসুস্থ প্রতিযোগিতাও বটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং অনেকটা মন খারাপ নিয়ে ধারাভাষ্য ছাড়েন। আইপিএল দেখে বেশ বিরক্ত ছিলেন। ক্রিকেটের যে ভাবদর্শন সেটা আইপিএলের বিপরীত। ধারাভাষ্য নিয়ে হোল্ডিং বলেছিলেন, ‘আমি শুধু মাত্র ক্রিকেটেই ধারাভাষ্য করি।’

আর ক্রিকেটের চেতনাবিনাশী আইপিএল নিয়ে অনেক কথাই বলেন। সেখানে তার বক্তব্য, ‘আপনি যখন ছয় সপ্তাহের মধ্যে ৬ লাখ থেকে আট লাখ ডলার উপার্জন করবেন, তখন কী করবেন? আমি ক্রিকেটারদের দোষ দিচ্ছি না। আমি প্রশাসকদের দোষ দিচ্ছি। তারা মুখে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা বললেও আখেরে নিজেদের আলমারিতে অর্থ ভরা ছাড়া কিছুই করে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে জয় পাচ্ছে। অথচ টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য তাদের কখনো চাপ দেওয়া হয় না।’

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //