১৬ পুলিশ সদস্যসহ ২৭ জনের নামে দুদকের মামলা

ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ১৬ জন, মাগুরা হিসাব রক্ষণ অফিসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং দুইজন সাধারণ মানুষ।

আসামিরা হলেন, পুলিশ সদস্য গাজী মশিউর রহমান (কং- ৬৫৮), ফিরোজ হোসেন (কং- ৪৭৭), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইসহাক মুন্সি ছেলে আজমল মুন্সি, মাগুরা সদর উপজেলার সাজিয়ারা গ্রামের শাহাদৎ হোসেনের মেয়ে রোকাইয়া ইয়াসমিন বিচিত্রা, পুলিশ সদস্য শিপন মৃধা- (কং-৮৫৮), এসআই জনাব হাসিনা খাতুন, এসআই সবুর আলম খান, এসআই মাহাবুব আলম, এসআই (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুর ইসলাম, তাসলিমা খাতুন (কং-৬০৬), হালিমা (কং-৫৩৬), মাগুরা জেলা পুলিশ অফিসের হিসাবরক্ষক বর্তমানে (আরআরএফ, খুলনা) মো. শরিফুজ্জামান, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তা (বর্তমানে যশোর) জিএম জিল্লুর রহমান,  মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তা বর্তমানে (গাইবান্ধা) মো. সাইফুল ইসলাম, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকর্তা বর্তমানে (জয়পুরহাট) সরকার রফিকুল ইসলাম, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকতার্র কার্যালয়ের অডিটর মো. আজমল হোসেন, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকতার্র কার্যায়ের অডিটর মো. আব্দুল লতিফ মিঞা, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকতার্র কার্যালয়ের অডিটর রথিন বিশ্বাস,  মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকতার্র কার্যালয়ের অডিটর মো. ফজলুর শহিদ, মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ ও ফিন্যান্স কর্মকতার্র কার্যালয়ের অডিটর বর্তমানে শালিখা উপজেলায় কর্মরত, শেখ আব্দুস সালাম, এএসআই (অবসরপ্রাপ্ত) আতিয়ার রহমান, এএসআই (অবসরপ্রাপ্ত) শাহ আলম গাজী, টিএসআই (অবসরপ্রাপ্ত) খান মো. আব্দুল হাই, কৃষ্ণপদ বিশ্বাস (কং-৩৬১- অবসবরপ্রাপ্ত), মো. আকবর আলী (কং-৪৫৯-অবসরপ্রাপ্ত) এবং আবুল কাশেম (কং-২৭০-অবসরপ্রাপ্ত), সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ঝিনাইদহ শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার মো. ওয়াজেদ আলী।

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, উল্লেখিত আসামিরা মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বাস্তবে কোনো বিল জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেয়নি। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং দুইজন সাধারণ মানুষের যোগসাজসে জিপিএফ (ভবিষ্যত তহবিল ফান্ড)’র অর্থ ভুয়া পোস্টিং এর মাধ্যমে তুলে নিয়েছে। যার পরিমাণ মোট ১০ কোটি ৪৪ লাখ ১ হাজার ৩৪৮ টাকা। ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। 

যশোর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক নাজমুস চ্ছায়াদাত সোমবার (১৮ আগস্ট) জানিয়েছেন, মাগুরা জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায় ১৬ জন পুলিশ সদস্য (যাদের মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন)সহ মোট ২৭ জন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে যা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় যশোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি দুদক তদন্ত করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিষয় : দুদক মামলা

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //