যে অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাসেল-শামীমা

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। 

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে র‌্যাব নিশ্চিত করেছে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা রাসেল ও শামীমার মোহাম্মদপুরের বাড়িতে অভিযান চালায়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, ইভ্যালির বিষয়ে একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব সদর দফতরে নেয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে প্রতারণার অভিযোগে শামীমা নাসরিন ও মোহাম্মদ রাসেল-এর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন মো. আরিফ বাকের নামে একজন গ্রাহক। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে এক নম্বর আসামি ও চেয়ারম্যান শামীমাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। এই মামলায় ইভ্যালির আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ইভ্যালি'র অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ে তা পাননি  মো. আরিফ বাকের। নিরুপায় হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তিনি।  

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ মে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ সব মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন আরিফ ও তার বন্ধুরা। একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য প্রদান ও টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যান আরিফ ও তার বন্ধুরা। তারা মোহাম্মদ রাসেল-এর সংগে কথা বলতে চাইলে সেখানে ইভ্যালির কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে তাকে (আরিফ) ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানের পাশাপাশি তাদের সংগে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এতে তারা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন জানিয়ে আরিফ এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন, পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //