বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে যাচ্ছে। এবারের সূচকে ২৫ দশমিক ৮ স্কোর করে ১১৭টি দেশের মধ্যে ৮৮তম হয়েছে। 

গতবারের চেয়ে উন্নতি করলেও বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। গতবার স্কোর ছিল ২৬ দশমিক ১। এবার কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ৮। এর আগে ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৬, যা ক্ষুধা সূচকে ‘ভীতিকর’ অবস্থা নির্দেশ করে। ২০১০ সালে স্কোর কিছুটা কমে হয় ৩০ দশমিক ৩। 

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিশ্ব ক্ষুধা সূচক-২০১৯’এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ সার্বিকভাবে উন্নতির দিকেই রয়েছে। বাংলাদেশ শিশুমৃত্যু হ্রাসে ভালো করেছে ও অন্যান্য সূচকেও ভালো করবে। পুষ্টিহীনতা, খর্বাকৃতি শিশু ও শিশুমৃত্যুর হার বাংলাদেশে হ্রাস পেয়েছে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত করতে কৃষি খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে খাদ্য ঘাটতি তেমন একটা না থাকলেও আমরা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৬ দশমিক ১। ২০০৫ সালে সেটি ভালো হয়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৭ এ। ২০১০ সালে সেটি আরো ভালো হয়ে স্কোর দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩। সর্বশেষ ২০১৯ এ হয়েছে ২৫ দশমিক ৮। স্কোরের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ভালো করলেও দেশের কোনো কোনো জেলায় অপুষ্টি, শিশু মৃত্যু হার ও শিশুদের অপচয় বা খর্বকায়ন ব্যাপক রয়েছে। সেসব স্থানে সার্বিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। এছাড়া বায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এখন থেকে সতর্ক দৃষ্টি রখতে হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শিশু খর্বকায়ন সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সিলেট বিভাগে। এরপরই রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যাপক বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা, অতিদরিদ্র ২ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যাপক শহরায়ন মোকাবেলা করা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোন দেশের জনগণ কতটুকু ক্ষুধার্ত, তা তুলে ধরা হয় এই বিশ্ব ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে। এই সূচকে শূন্য থেকে ১০০ পয়েন্টের মাপকাঠিতে যাচাই করা হয় কোন দেশ কতটা ক্ষুধাপীড়িত। এই মাপকাঠিতে শূন্য হচ্ছে সবচেয়ে ভালো স্কোর, যার অর্থ সেই দেশটিতে ক্ষুধা নেই। 

আর ১০০ হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। ১০ এর কম স্কোর পাওয়ার অর্থ সেই দেশে ক্ষুধার সমস্যা কম। ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ স্কোরের অর্থ তীব্র ক্ষুধা, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ অর্থ ভীতিকর ক্ষুধা আর ৫০ বা তার বেশি স্কোর বলতে বোঝায় চরমভাবে ভীতিকর ক্ষুধায় পীড়িত দেশকে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পুষ্টিসেবার লাইন ডিরেক্টর এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক শাহ নেওয়াজ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর উম্মে হাবিবা।


সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //