কমছে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা, শঙ্কায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা

পপি, ফেরদৌস ও পূজা

পপি, ফেরদৌস ও পূজা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে। দর্শকদের অনেক অভিযোগ চলচ্চিত্র নিয়ে। ভালো সিনেমা হল নেই। ভালো গল্পের সিনেমা নেই। ঘুরে ফিরে একই মুখ। একই গল্প। মনে দাগ কাটার মতো গান নেই। 

দর্শকদের এসব অভিযোগ শুনতে শুনতে প্রযোজকরাও ছবি বানানো কমিয়ে দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে মুক্তি পাওয়া সিনেমার সংখ্যা কমেই চলেছে।

২০১৫ সালে ৬৭টি দেশীয় সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমার সংখ্যা ছিল ৫৬। ২০১৮ তে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫টি। ২০১৯ মুক্তি পায় ৪৭টি। তার মধ্যে দুইটি ভারতীয় বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি। ২০২০ মার্চ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে তিনটি ছবি। 

এসব ছবি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই দর্শকদের মধ্যে। সিনেমা নির্মাণ সংখ্যা কমে যাওয়াটাকে চলচ্চিত্রের জন্য অশুভ সংকট মনে করছেন চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্টরা। 

চিত্রনায়ক ও প্রযোজক ফেরদৌস বলেন, সিনেমার মতো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। ভালো গল্প নেই, পরীক্ষিত পরিচালকরাও এখন কাজ করছেন না। লোকসান গুনতে গুনতে পেশাদার প্রযোজকেরাও সিনেমা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া সিনেমার মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের দলাদলি।

চিত্র নায়িকা পপি মনে করেন, প্রযোজকরা ছবি বানাতে আগ্রহ কমে গেছে। আমাদের এখানে মানসম্মত সিনেমা হল নেই। যা আছে তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সময়টা ভালো যাচ্ছে না। অনেক প্রযোজক সিনেমায় অর্থলগ্নি করতে সাহস পাচ্ছেন না। 

চিত্রনায়ক বাপ্পারাজের নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা আছে। সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কমে যাওয়াকে তিনি মনে করেন চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও ভালো নয়। তিনি বলেন, বড় বাজেটের পরিচ্ছন্ন ছবি ছাড়া দর্শক এখন আর ছবি দেখতে চাইছেন না। তাছাড়া এখানকার কোনো কোনো পরিচালকের নির্মাণের দুর্বলতাও বর্তমান অবস্থার জন্য অনেকটাই দায়ী। উন্মুক্ত পৃথিবীতে দর্শকদের ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই জায়গাটাই আমরা এখনো ধরতে পারছি না। এ কারণে আমাদের সিনেমার এই দুরবস্থা। আমার মনে হচ্ছে, সামনে আমাদের সিনেমা নির্মাণ আরো কমবে।

সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা। তাদের অনেকেই পেশা বদলের কথা ভাবছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েজন চিত্রনায়িকা ঘটা করে চলচ্চিত্র অঙ্গন ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই তালিকাটি দীর্ঘ হতে থাকবে বলে মনে করছেন এই সময়ের আলোচিত নায়িকা পূজা চেরি। 

তিনি জানান, আমরা এমন একটা সময় চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেছি, যখন সামনে অন্ধকার ছাড়া কিছু নেই। আমার অভিনীত জিন ছবিটি মুক্তি আটকে গেল করোনার কারণে। এখন ভাবছি পড়াশোনায় মনোযোগী হবো। শুধু চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে ক্যারিয়ার গড়ার কথা চিন্তা করলে একটা সময় গিয়ে হয়তো কিছুই করা হবে না।

যেসব ছবি মুক্তির মিছিলে আছে, সেগুলো হল খুললেও এ সময়ে ছবি মুক্তি দিতে সাহস করছেন না প্রযোজকরা। শুধু কলাকুশলীরাই নয় প্রযোজকরাও তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh