ভালো অভিনেত্রী হতে চাই : দিঘি

দিঘি

দিঘি

সবার নিশ্চয়ই মনে আছে সেই ছোট্ট দিঘির কথা। ‘বাবা জানো আমাদের ময়না পাখিটা না আজ আমার নাম ধরে ডেকেছে’- বিজ্ঞাপনচিত্রের এমন সংলাপটি ছিল দিঘির। এটি প্রচারের পর সেসময় দর্শকদের মন জয় করেছিল সেই মেয়েটি। সংলাপটি তখন দর্শকের মুখে মুখে ছিল। ২০০৪ সালের কথা এটি। 

এরপর শিশু অভিনয়শিল্পী হিসেবে সিনেমাপ্রেমী দর্শকের মনে অল্প সময়ে জায়গা হয়ে যায় প্রয়াত চিত্রনায়িকা দোয়েল ও চিত্রনায়ক সুব্রতর একমাত্র কন্যা দিঘির। এক বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে সবাইকে মাত করে দেওয়ার পর শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রেও অভিষেক হয় এই মডেলের। এরপর তার অভিনয়ে একের পর এক সিনেমা মুক্তি পায়। 

দিঘির পুরো নাম প্রার্থনা ফারদিন দিঘি। ২০০৬ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা ‘কাবুলিওয়ালা’।

প্রথম ছবিতেই দিঘি শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ২০০৮ সালে ‘এক টাকার বউ’ ও ২০১০ সালে ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিতে আরো দুইবার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জিত হয় তার। শিশু থেকে কিশোরী হওয়ার আগেই দিঘির অভিনয় করা হয়েছে ৩০টি ছবিতে। এরপরই বিরতি। মনোযোগী হয়ে ওঠেন লেখাপড়ায়। তিনি স্টামফোর্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছেন। 

‘কাবুলিওয়ালা’, ‘চাচ্চু’, ‘দাদি মা’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, ‘এক টাকার বউ’, ‘ছোট্ট সংসার’ ছবিগুলো মুক্তি পাওয়ার পর বেশ সাড়া পড়েছিল। সবশেষ ২০১২ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘ছোট্ট সংসার’ সিনেমায় অভিনয় করেন। সাত বছর পার হয়েছে।

পড়াশোনার কারণে কোনো সিনেমায় আর কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে এবার ছোট্ট দিঘি নায়িকা হয়েই সিনেমাতে ফিরেছেন। দুটি ছবির শুটিং চলছে। আরো একটি ছবিতে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

পড়াশোনার বাইরে বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের সঙ্গে ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ‘টিকটক’ করতেও দেখা যায় তাকে। অনেকে এ জন্য তাকে টিকটক কুইন নামের উপাধিও দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিঘি বলেন, আমি জানতাম না টিকটক কুইন হয়ে গেছি। এটি একটি মজার অ্যাপ। টোটালি টাইম পাস করার জন্য কাজটি করা হয় আমার।

নায়িকা হিসেবে দিঘি প্রথম ছবিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের মতো ঐতিহাসিক একটি চরিত্রে অভিনয় আমার জন্য বড় পাওয়া। শামীম আহমেদ রনির ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ছবিতে আমাকে এই চরিত্রে দেখা যাবে। আদৌ এই চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে পারব কি-না; শুরুতে এমন একটি ভয় কাজ করছিল। তবে পরিচালক ও প্রযোজক আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। পাশাপাশি আমার বাবা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তিনিও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে বাবা সংলাপগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া পুরো ইউনিট আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি জানালেন এখন থেকে নিয়মিত অভিনয় করবেন। শিগগিরই আরো দুটি সিনেমার কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে একটি দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘তুমি আছ তুমি নেই’, আরেকটি কাজী হায়াতের পরিচালনায় ‘যোগ্য সন্তান’। ‘যোগ্য সন্তান’ সিনেমায় আমার বিপরীতে রয়েছেন শান্ত খান। এছাড়া আরো পাঁচ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। 

‘আমি নায়িকা নই, একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই’ বললেন দিঘি। তাই শুরু থেকেই চেষ্টা করছি, যে ছবি করব, সেখানে যেন আমার অভিনয় করার সুযোগ থাকে। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই। আর ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ কম থাকবে, এমন ছবি এড়িয়ে চলতে চাই।

তিনি আরো জানালেন, সিনেমার প্রস্তাব প্রথমে বাবার কাছে আসে। এরপর বাবা ভেবে দেখেন। সত্যি বলতে, মা মারা যাওয়ার পর বাবাই আমার সব সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আগে বিষয়টি আমাকে জানান। এরপর বাবা-মেয়ে দু’জনে বসে সিদ্ধান্ত নিই। তারপর ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হই। বাবা আমার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না।

তিনি আরো জানালেন, ছোটবেলার অভিনয়ের কথা একটুও ভুলিনি। সবটুকুই মনে আছে। সে সময়ের কাজগুলো মাঝে মধ্যে দেখা হয়। যতই দেখি ততই ভালো লাগে। তখন দর্শক আমাকে যেভাবে পছন্দ করেছেন, আশা করছি এখনো করবেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh