‘অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ইউএনও মিথ্যা অভিযোগ করেছেন’

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় তার বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান দাবি করেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও সুবিধা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ইউএনও মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে বিভিন্ন ঠিকাদার ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করেছেন, হাট বাজার থেকে উত্তোলনকৃত ইজারার ১০ শতাংশ কর্তন করেছেন, উপজেলার মাসিক সভা না করে উন্নয়নমূলক কাজ নামকাওয়াস্তে বাস্তবায়ন করেছেন, অবৈধভাবে উপজেলা চত্বরের গাছ কর্তনসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা ইউএনওর বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, ইউএনওর নির্দেশে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতার তালিকা প্রণয়ন, সুস্থ ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান, মৃত ব্যক্তিকে অসুস্থ দেখিয়ে চিকিৎসার অর্থ আত্মসাৎ ও প্রান্তিক মানুষের নামেবেনামে সমাজসেবার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ইউএনও নিজেই বিধি বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারের নামে নিয়ে এডিপি ও আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর কাজ করছেন। স্থানীয় ভাটা মালিকদের চাপ দিয়ে ইট নিয়ে এসে উপজেলা পরিষদে রেখেছেন। তদারকি কর্মকর্তা হয়ে নিজে কাজ করার বিষয়টির প্রতিবাদ করায় ইউএনও আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানান যায়, গত ১২ নভেম্বর উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান, যা বিধিসম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকোচ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক দিয়ে খুলতে গেলে তার ছবি তোলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একইসঙ্গে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয়।

চরম উত্তেজিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোবাইলে কল করে তার দলের লোকদের ডাকলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার পর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পরপরই ইউএনওসহ উপজেলার সব দফতরের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।  

পরে ওইদিন রাতে ইউএনওসহ উপজেলার ১ ৮জন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক বরাবরে এ সংক্রান্ত গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ  দায়ের করেন। যার স্মারক নং - ০৫.৪৭.৫২০২.০০০.০২.০৮৩.২০- ৭৬৪।

এর অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে উপজেলা পরিষদ আইনের লঙ্ঘন করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, আমরা সব দফতরের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবকে (ডিডিএলজি) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh