পেশা পাল্টাচ্ছে কলু সম্প্রদায়

প্রযুক্তির বিপ্লবে দেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে কাঠের ঘানিতে ভাঙা তেল তৈরির প্রক্রিয়াটি। বিলুপ্ত হচ্ছে ঘানি বা তেলের গাছ। প্রযুক্তির সাথে টিকতে না পেরে পেশা পরিবর্তন করছেন কলু সম্প্রদায়। আবেগের বশে তিন পুরুষের পেশা টিকিয়ে রেখেছেন কিছু কলু সম্প্রদায়। এমন দু’জন কলু সম্প্রদায়কে খুঁজে পাওয়া যায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায়। তারা বলছেন প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারা, সরিষা ও গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে কলু সম্প্রদায়। 

‘কলু’ বা ‘তেলী’ ‘ঘানি’ বা ‘তেলের গাছ’ এই শব্দ গুলোর সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মর তেমন পরচিয় নেই বললেই চলে। কারণ সেভাবে চোখে পড়ে না কলু সস্প্রদায়ের। সরিষার তেলের সঙ্গে কলু সম্প্রদায়ের সর্ম্পক ওতপ্রোতভাবে জড়তি। আগে গ্রামে-গঞ্জে ও হাট-বাজারে মাটির হাঁড়িতে ফেরি করে বিক্রি হতো কাঠের ঘানিতে উৎপাদিত খাঁটি সরিষার তেল। হাঁড়ির ঢাকনির নিচে থাকতো তালের বিচির খোসা দিয়ে বানানো বাঁশের হাতলের ওরং। তেল তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ওরং ব্যবহৃত হতো।  সরিষা বা তেলবীজ পেশার জন্য পশু দ্বারা চালিত যে দেশীয় যন্ত্রটি কলুরা ব্যবহার করেন সেটিই ‘ঘানি’ নামে পরচিতি। ঘানি টানবার জন্য কলু মূলত গরু কিংবা ঘোড়া ব্যবহার করা হয়। ঘানি তৈরি হয় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে, যেখানে লোহার কোন ছোয়া নেই। 

কথা হয় কলু (তেলী) মো. আজিজার রহমানের সাথে। তিনি জানান, তার বাড়িতে ৩ টি ঘানি বা তেলের গাছ রয়েছে। দাদার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ব্যবসা করতেন তার পিতা মরহুম আব্দুল শাহ। 

তিনি পেয়েছেন পিতার কাছ থেকে। সারাবছর চলে এই ৩ টি ঘানি। পাশের বিন্নাকুঁড়ির হাটে সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও মঙ্গলবার তেল বিক্রি করেন। তা ছাড়া প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তেল কিনতে বাসায় আসে। শীত কালে তেল বিক্রি বেশি হয়। সাধারণত এই তেল মানুষ শরীরে মেখে থাকেন। শিশুদের মাখিয়ে থাকেন। 

তিনি আরো বলেন, অপেক্ষাকৃত কাঠের ঘানির তেলের দাম বেশি হওয়ায় এর ক্রেতা কম; কিন্তু যারা এই ঘানির তেল ক্রয় করেন তারা মূলত বিশুদ্ধতাকেই গুরুত্ব দেন।

বিষয় : দিনাজপুর

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh