সুবর্ণচরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ফসলের মাঠ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে দুটি গ্রামের ফসলি জমি। 

জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, মরিচ, আলু, ডালসহ প্রায় একশ একর জমির বিভিন্ন রবিশস্য। ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদাসীনতার কারণে এ বাঁধটি সঠিক সময় মেরামত না করায় গত ৩-৪ বছর ধরে তারা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন কৃষকদের ফসলের ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, চর বাগ্যা গ্রামের ভুলুয়া নদীর পাড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটির মেরামতের জন্য সিডিএসপি আওতায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ মিটার মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। 

সরেজমিনে মধ্যম ও দক্ষিণ চর বাগ্যা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মধ্যবর্তী সীমানায় ভুলুয়া নদী। পশ্চিমে রামগতির চর রমিজ ও পূর্বে সুবর্ণচরের চর বাগ্যা গ্রাম। পশ্চিমে চর জেগে উঠায় সীমাহীন ভাঙনের কবলে পড়ে পূর্বাঞ্চল। উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনের সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯৮৬ সালে চর বাগ্যা গ্রামে ভুলুয়া নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময় বন্যা ও প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাসের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁধটি। 

পরে ২০১৬ সালের দিকে তা মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে ও ২০১৮ সালে ভাঙতে শুরু করে বেড়িবাঁধটি। গত তিন বছর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে আশপাশের বাড়িঘর, মাছের পুকুর ও ফসলি জমিতে ডুকে পড়ে নদীর লবণাক্ত পানি। আর চলতি বছরে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় প্রচণ্ড জোয়ারে বেড়িবাঁধের অন্তত ৩০০ মিটার ভেঙে গিয়ে ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকতে শুরু করে। আর এ জোয়ারের পানিতে গত ২৬ মার্চ থেকে প্রতি ১২ ঘণ্টায় একবার জমিগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এতে দুই তিন ঘণ্টা স্থায়ীভাবে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর ক্ষেতে থাকা ফসল নিয়ে নদীতে নেমে যাচ্ছে জোয়ারের পানি। বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় শুকনো মৌসুমে যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে তা বর্ষায় আরো কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কৃষক চৌধুরী আলম বলেন, দুই একর জমিতে তরমুজ, ঢেঁড়স ও সয়াবিন চাষ করেছিলাম। শ্রমিকসহ মোট উৎপাদনে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। গত ১৫ দিন আগে ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করে। ফসল উঠলে অন্তত তিন লাখ টাকা বিক্রি করার আশা ছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে গত ২৬ মার্চ পূর্ণিমার সময় ভুলুয়া নদীর পার্শ্ববর্তী ভাঙা বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে ঢুকতে শুরু করে লবণাক্ত পানি, যা এখনো পর্যন্ত চলমান। আর এ পানি নেমে যাওয়ার সময় ক্ষেতের ফসল নিয়ে যায় এবং পরে ক্ষেতে থাকা অবশিষ্ট গাছগুলো মরে যাচ্ছে। যার কারণে এক টাকার ফসলও ঘরে তুলতে পারিনি।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের মেরামত না করায় চৌধুরী আলমের মতো এ দুই গ্রামের অন্তত ৮০ জন কৃষক জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১০০ একর জমির ফসল হারিয়ে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। তাদের সবার দাবি অতিদ্রুত যেন এ বেড়িবাঁধটি মেরামত করা হয়। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ জানান, খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ক্ষেতগুলো তিনি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থার আবেদন করা হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh