মিতু হত্যা: গায়েত্রীর গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পিবিআই

মাহমুদা খানম মিতু।

মাহমুদা খানম মিতু।

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক গায়েত্রী অমর সিংয়ের পরকীয়ার যে অভিযোগ মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন মামলার এজাহারে করেছেন, তা তদন্তে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তারই ধারবাহিকতায় গায়েত্রীর অবস্থান ইউরোপে হওয়ায় এখন গায়েত্রীর কক্সবাজারের বাসার গৃহকর্মীর সঙ্গেও কথা বলতে চায় পিবিআই। ইতোমধ্যে ওই গৃহকর্মীর খোঁজ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। যেকোনও সময়ে তার কাছে গায়েত্রী-বাবুলের পরকীয়া সম্পর্কে জানতে চাইবে পিবিআই। 

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ‘গায়েত্রীর বাংলাদেশের বাসার গৃহকর্মীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইব বিষয়টি কী। দেখি আমাদের কতটুকু সহযোগিতা করে। বাবুল আক্তার-গায়েত্রী সম্পর্কে তিনি কী জানেন। বাবুল কতটুকু প্ররোচিত হয়েছে তা জানার চেষ্টা করব। গায়েত্রীর গৃহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে ক্লিয়ার হওয়ার চেষ্টা করা হবে। তদন্তে এসব বিষয়গুলো আসবে।’ 

এর আগে, গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা মামলায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৩ সালের কক্সবাজারে জাতি সংঘের শরণার্থী শিবিরে কর্মরত উন্নয়নকর্মী ভারতীয় নাগরিক গায়েত্রী সিংয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পথের কাটা সরাতেই স্ত্রী মিতুকে খুন করান বাবুল আক্তার। মিতু-বাবুল দম্পতির সুখের ঘরে আগুন লাগে মূলত এ গায়েত্রীর পরকীয়ার জেরে। তাদের পরকীয়ার জেরে পারিবারিক কলহে মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করতে ভাড়াটে খুনিদের তিন লাখ টাকায় কিলিং মিশনের চুক্তি করেন তারই স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

এ কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেন তারই ঘনিষ্ঠ সোর্স মুছা। আর চুক্তির তিন লাখ টাকা বাবুলের নিকটাত্মীয় সাইফুলের মাধ্যমে মুছার এক আত্মীয়ের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। সাইফুলের সাথে বাবুলের মামুন নামে এক বন্ধুও ছিল। মূলত উন্নয়নকর্মী গায়েত্রী সিংয়ের সঙ্গে বাবুলের প্রেমের বিরোধ থেকেই স্ত্রী মিতুকে সরিয়ে দিতে এ কিলিং মিশনের পরিকল্পনা ও বাস্তাবায়ন করেন বাবুল আক্তার। 

এছাড়া ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত বাবুল আক্তার সুদানে শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে ২৯ বার বিভিন্ন ম্যাসেজ দেন গায়েত্রী সিং। এরপর মিশন থেকে বাবুল ফিরলে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাবুল আক্তার বিছানার উপর মোবাইল ফোনটি রেখে বাথরুমে যান। এসময় একটি এসএমএস আসে বাবুলের মোবাইলে। তখন মিতু এসএমএসটি চেক করে দেখতে পান একটি আপত্তিকর বার্তা। তখন মিতু মোবাইলটির সুইচ বন্ধ করে বাসার স্টোর রুমে ফোনটি লুকিয়ে রাখে।

এরপর বাবুল আক্তার ফোন খোঁজাখুঁজি করলে মিতু ফোনের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। পরদিন বাবুল আক্তার বাসা থেকে বের হলে মিতু মোবাইলের সিম বের করে মোবাইলটি অন করেন। এরপর ওই মোবাইল থেকে একে একে ২৯টি এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) পড়েন। পরে এ ব্যাপারটি মিতু প্রমাণ হিসেবে ছেলের ছবি আঁকার আর্ট পেপারে লিখে রাখেন। ২৯টি ম্যাসেজের সবগুলোই ইংরেজিতে লেখা। ম্যাসেজগুলোতে গায়েত্রী ও বাবুলের মধ্যে গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

গায়েত্রী জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক ইউএনএইচসিআর প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে প্রতিরোধ শাখার একজন কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ সালে তখন বাবুল আক্তার কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে গায়েত্রী সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কর্মরত। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh