সাতক্ষীরার হিমসাগর আমও যাচ্ছে ইউরোপে

হিমসাগর আমও যাচ্ছে ইউরোপে। ছবি : সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

হিমসাগর আমও যাচ্ছে ইউরোপে। ছবি : সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

গোবিন্দভোগের পর এবার লন্ডন যাচ্ছে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম। ধীরে ধীরে আরো আম বিদেশের বাজারে রফতানি হবে। তবে আমের দাম নিয়ে বরাবরের মত মনক্ষুণ্ন চাষিরা। 

গত শুক্রবার (২১ মে) থেকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে হিমসাগর আম পাঠানো শুরু হয়েছে। মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সসহ চারটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা থেকে আম কিনছে। 

সাতক্ষীরার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার পাঁচ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। আর ৫০০ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম চাষ করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার আম রফতানি। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গতবছর বন্ধ থাকার পর এবারো আম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ বিদেশের বাজারে যাচ্ছে। বিদেশে আম রফতানির টার্গেট রয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। 

মাটি ও আবহাওয়া অনুকুল হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় আগেই বাজারজাত করা যায় সাতক্ষীরার আম। মাটির গুনে আমের স্বাদও ভাল। এসব কারণে দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সাতক্ষীরার আমের। ২০১৪ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম রফতানি হচ্ছে বিদেশে। ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, লন্ডন, ইতালি, পর্তুগাল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাধারণত সাতক্ষীরার আম রফতানি হয়। গতবছর করোনার কারণে বিদেশে আম যায়নি।

এক বছর বন্ধ থাকার পরে এবছর সাতক্ষীরার আম বিদেশে যাচ্ছে। গত ৮ মে ৫০০ কেজি গোবিন্দভোগ আম পরীক্ষামুলকভাবে জার্মানিতে রফতানি হয়। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও এফএও’র যৌথ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সাতক্ষীরার বিশুদ্ধ আম উৎপাদনে। ৫০০ আম চাষিকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আর এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের ‘সফল প্রকল্প’।  

তবে দুই হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে আম বিক্রিতে খুশী নন চাষি। তারা বলছেন, রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে গেলে তাদের প্রচুর খরচ হয়। 

এ প্রসঙ্গে ছয়ঘরিয়া গ্রামের আম চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ আমাদের দিয়েছে- এটা সত্য। তবে পরিচর্যা করতে যে খরচ, তাতে ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করলে আমার লাভ থাকবে না। এছাড়া আম প্রচুর পরিমাণে বাদ দেয় ক্রেতারা। ২০ মণ আমে কমপক্ষে ৭ মণ বাদ দেয়া হয়। বাদ দেয়া আমগুলো অনেক কমদামে বেচতে হয়। তিনি হিমসাগরের দাম মণপ্রতি ৩ হাজার টাকা দেয়ার দাবি জানান। 

তবে দামের বিষয়ে উত্তরণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইকবাল হোসেন জানান, বাইরে আম বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। আর বিদেশে রফতানিযোগ্য আমের চাষিরা দাম পাচ্ছেন ২ হাজার ৫০০ টাকা। এজন্য চাষিরা এই দাম পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ নন বলে দাবি করেন তিনি। 

সলিডারেড নেটওয়ার্কিং এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ৫০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কিভাবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন করা যায়- প্রশিক্ষণটা মুলত সেখানে। আজকে ছয়ঘরিয়ায় হাফিজুর রহমানের বাগান থেকে আম পাঠানো হচ্ছে। ক্রেতা হলেন- তাসফিক ইন্টারন্যাশনাল ও এনএসবি কর্পোরেশন। তারা ইতালি ও লন্ডনে আমগুলো পাঠাচ্ছেন। 

তিনি আরো জানান, শুধু ইউরোপের দেশগুলোই নয়- ইয়েমেন, বাহরাইন ও মালয়েশিয়াতেও সাতক্ষীরার আম যাবে। ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া ও ৪ জুনের পর থেকে আম্রপালি আমও বিদেশে যাবে। 

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম জানান, আমরা চাষিদের উত্তম কৃষি চর্চায় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। কিভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে, তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আহরণের আগে এক মাসের মধ্যে কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। বিষয়টিতে আমরা খুবই নজরদারিতে রাখি। 

তিনি বলেন, এছাড়া আম পাড়ার পরে কোনো রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা যাবে না। সাতক্ষীরার আমে যাতে বদনাম না হয়- সেজন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ একযোগে কাজ করছে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh