আলটিমেটামের পর সরলো ওসমান পরিবারের কবরস্থান থেকে শ্মশানের মাটি

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আলটিমেটামের পর ওসমান পরিবারের সদস্যদের কবরস্থানে দেয়া শ্মশানের মাটি সরিয়ে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। আলটিমেটামের পরপরই সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার মামুন মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন।

এর আগে সোমবার (৯ আগস্ট) বিকেলে শহরের মাসদাইর এলাকার কবরস্থানে গিয়ে ওসমান পরিবারের কবরের ওপরে মাটির স্তূপ দেখতে পান শামীম ওসমান। পরে জানতে পারেন এগুলো শ্মশানের মাটি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি এ মাটি সরিয়ে ফেলার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেন।

কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাকারিয়া বলেন, এটা শ্মশানের মাটি কি না আমি নিশ্চিত না। তবে ঠিকাদাররা শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ করেছেন।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার মো. মামুন বলেন, কবরস্থানে শ্মশানের মাটি ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। শ্মশান সংস্কারের সময় মাটি রাখা হয়েছিল। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাটি এখানে চলে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জে শ্মশানের মাটি দিয়ে যে কবরস্থান ঢেকে ফেলার চেষ্টা হয়, সেখানে শামীম ওসমানের দাদি, বাবা, মা, বড় ভাই ও স্বজনদের দাফন করা হয়েছে। শামীম ওসমান দাবি করেন, ‘এ ঘটনার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের অবমাননা করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় আবার অনেকেই মনে করছেন, ‘চুনকা পরিবারের সাথে ওসমান পরিবারের দূরত্ব সৃষ্টি করতে নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে একটি মহল।’

সোমবার স্বজনদের কবরের পাশে কান্না জড়িত কণ্ঠে ক্ষোভের সাথে ঠিকাদার মো. মামুনকে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনার বাবা-মা বা স্বজনদের কবরে কী শ্মশানের মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে পারবেন?

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কবরগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সিটি করপোরেশনকে অপরাধীদের বের করে নেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কাউকে দোষারোপ না করে তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। এটা ইবলিশ শয়তানের পক্ষেই কেবল সম্ভব। ইবলিশ ওরফে শয়তান মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে এমন জঘন্য কাজ করিয়েছে।’

শামীম ওসমান ওই সময় প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা এমন জঘন্য কাজ করেছে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, এমন কাজ করে তাদের কী লাভ হয়েছে। এতে আমাদের কষ্ট আরো বেড়েছে।

আমাদের বাবা মা স্বজনদের কবর সংস্কার আমরা করবো, এটা আমাদের কাজ। কিন্তু মুসলমানের কবর শ্মশানের মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়া হবে এটা মেনে নেয়া যায় না। এটা কেউই মেনে নেবে না। আমরাও চাই না কোনো মুসলমানের কবরের মাটি শ্মশানে দেয়া হোক।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় (মাসদাইর) কবরস্থান ও শ্মশানের প্রাচীর নির্মাণের কাজ পায় মামুন নামের ওই ঠিকাদার।

এ সময় শ্মশানের মাটি দিয়ে শামীম ওসমানের বাবা প্রয়াত একেএম শামসুজ্জোহা, মা নাগিনা জোহা, বড় ভাই একেএম নাসিম ওসমানসহ স্বজনদের কবরে ৩ ফুট মাটি ফেলা হয়।

সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বাবা প্রয়াত এ কে এম শামসুজ্জোহাকে সরকার মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দিয়েছেন। তিনি ভাষা আন্দোলনেরও সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। মা নাগিনা জোহাও ছিলেন ভাষাসৈনিক।

আর বড় ভাই নাসিম ওসমান ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গঠিত তৎকালীন কাদের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।

ঠিকাদার মামুন জানান, ‘শ্মশান সংস্কার, ঘাটলা নির্মাণ ও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ সিটি করপোরেশন থেকে পেয়েছি। কয়েকদিন আগে শ্মশানের পুকুরের পানি সরিয়ে মাটি তোলার কাজ করি। কিছু মাটি কবরস্থানের সীমানায় রাখি।

এরই মধ্যে কবরস্থানে দায়িত্বে থাকা সিটি জামে মসজিদের ইমাম বদর শাহ আল কাদরী ও মোয়াজ্জিন মো. জাকারিয়া মোমেন এবং খাদেম  (গোর খোদক) কবরে দেয়ার জন্য স্তূপ করে রাখা মাটি নিতে চাইলে আমি নিতে বলি। পরে জানতে পারি ওই মাটি নিয়ে তারা শামীম ওসমানের বাবা, মা ও স্বজনদের কবরে দিয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //