ঠিকাদার কাজ ফেলে কেন পালাচ্ছে?

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অসম্পন্ন রেখে পালিয়ে গেছে ঠিকাদার। মূল ঠিকাদার কাজ না করে উপ-ঠিকাদার নিয়োগ, মনিটরিংয়ের অভাব, বিল পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং কম দরে কার্যাদেশ দেওয়াকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চসিক। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূল ঠিকাদার কাজ পেয়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ লাভ নিয়ে উপ-ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। কাজের সময় আবার সুপারভাইজার থেকে শুরু করে প্রকল্প পরিচালক পর্যন্ত এমনকি বিল তোলার সময় হিসাব বিভাগকেও সন্তুষ্ট করতে হয়। অনেক সময় কিছু কাউন্সিলরও তাদের পার্সেন্টেজ চায়। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উপ-ঠিকাদারের পুঁজিতে টান পড়ে। সেসময় যতটুকু সম্ভব বিল তুলে পালিয়ে যায় তারা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে আরও জানা যায়, ঠিকাদার ব্যাংক ঋণ নিয়ে কাজ করলেও বিল কখন পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। এক থেকে দেড় দশক ধরে উন্নয়ন কাজের জন্য চসিকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে এমন ঠিকাদারের সংখ্যা কম নয়। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের প্রতি তাই ঠিকাদারদের আগ্রহ নেই বললেই চলে।

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ ফেলে যাওয়ার জন্য ঠিকাদারের গাফিলতিই প্রধানত দায়ী। চসিক হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করে। এর মধ্যে হয়তো অল্পসংখ্যক কাজ ঠিকাদার শেষ না করে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যে দর দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয় তার চেয়ে কম দর দিয়ে ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিল করেন। তারা না পারলে কম দরে দরপত্র দাখিল করত না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পিসি রোডে তাহের ব্রাদার্স কাজ সম্পন্ন করেছে; কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠান করতে পারেনি। এখানে আন্তরিকতাটাই মুখ্য। তাহের ব্রাদার্স আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। তবে যারা পারেনি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //