খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বড় ও সুন্দর ঝরণার সন্ধান!

পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা, উপত্যকা ও অরণ্যের সবুজ জনপদ খাগড়াছড়ি। জেলায় দুর্গম বুনো পাহাড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঝরণা। তবে এবার সন্ধান মিলেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সবচেয়ে বড় ও সুন্দর ঝরণা ‘শিলাছড়ি’। শিলা বা পাথরে মোড়ানো ঝিরি অনুসারে ঝরণা নাম রেখেছে শিলাছড়ি। 

লোকালয় থেকে হেঁটে এ ঝরণায় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এখানে উঁচু-নিচু পাহাড়ের পরিবর্তে হাঁটতে হবে ঝিরিপথে। তাই হাঁটার কষ্ট কিছুটা কম। ঝিরির শীতল পানিতে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মিলবে উঁচু পাহাড়। টারশিয়ান যুগের পাথরে মোড়ানো পাহাড়। ঝিরিপথের সহজ পথ পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মুগ্ধ হবে পথিক। প্রায় ২০ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থের ঝিরি বড় বড় পাথরে ঠাসা। পাহাড়ের কোথায় এমনট দেখা মেলা ভার। বড় বড় পাথরের ফাঁক গলে পেরিয়ে আসছে সাদা জলের ধারা। প্রকৃতির নীরবতা এখানে নেই। নীরবতা ভাঙছে আদিকাল থেকে পাথরে মোড়ানো ঝিরি। হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে ফিরে গেছি সেই টারশিয়ান যুগে। 

‘শিলাছড়ি’ ঝরণার কাছাকাছি যেতেই ভেসে আসে জলের শব্দ। পাথরে বেয়ে ওপরে উঠেই ঝরণা দর্শন করতে হয়। সবুজ ক্যানভাসে যেন সাদা ঝরণা। বর্ষার কারণে চারপাশে সবুজ। ঝরণার উচ্চতা ১২০ ফুটের বেশি। প্রস্থ প্রায় ৭০ ফুট। চোখে না দেখলে ঝরণার এত বড় অবয়ব কল্পনাও করা যাবে না। করোনাকালে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর বুনোপথ পেরিয়ে ঝরণা দেখতে অনেকেই ছুটছেন এখন। 

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুন্না, সীমা ও তাসনিম জানান, করোনাকালে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি। পাহাড়ে বেড়াতে এসে এত সুন্দর একটা ঝরণা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম সুন্দর ঝরণা এটি। এখানে আসার পথও বেশ রোমাঞ্চকর। তবে পাহাড়ি ঝিরি ও পাথুরে পথে সাবধানে হাঁটতে হয়। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেরিয়ে এখানে আসার পর সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

স্থানীয় যুবক রিন্টু চাকমা, নাচ্চু চাকমা ও রুমেল চাকমা বলেন, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সীমান্তে ‘শিলাছড়ি ঝরণা’ অবস্থিত, এখানে যাতায়াতের পথ বেশ দুর্গম। শিলাছড়ি ঝরণায় পৌঁছানোর আগেও আরও কয়েকটি ছোট বড় ঝরণা দেখা যায়। স্থানীয়রা এখানকার প্রকৃতি রক্ষার বিষয়ে বেশ সচেতন। ঝিরি থেকে পাথর তোলা নিষেধ। ঝিরিতে পাথর থাকায় সারাবছরই পানির প্রবাহ থাকে। 

ন্যাচার ট্র্যাভেল বাংলাদেশ এর পরিচালক মইনুল হাসান জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিভিন্ন ঝরণা আমরা দেখেছি। তবে এতো বড় আর সুন্দর ঝরণা আগে দেখিনি। ঝরণায় আসার পথ খুবই রোমাঞ্চকর। করোনাকালে অনেকদিন ঘরবন্দি ছিলাম। এরকম একটি ঝরণা দেখে মুগ্ধ। সারাবছরই এখানে পানি থাকবে। 

প্রাকৃতিক ঝরণা রক্ষায় বন ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং বনায়নের পরামর্শ দিয়েছে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.সরোয়ার আলম। তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রচুর প্রাকৃতিক ঝরণা রয়েছে। এসব ঝরণায় বর্ষায় যেভাবে পানি প্রবাহিত হয়, তা ধরে রাখতে গেলে আমাদের বন রক্ষা করতে হবে। নতুন করে বনায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা করতে হবে। ঝরণাগুলো রক্ষা করা গেলে পর্যটক আকর্ষণও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //