ড্রাগন চাষে সফল কলেজ শিক্ষক

তৌহিদুর রহমান সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মৃত মাস্টার ওমর আলীর ছেলে ও খুলনা সুন্দরবন সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। 

শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রামে কৃষিকাজ করেন তিনি। গতানুগতিক কৃষির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সময়ের প্রয়োজনে লাভজনক ফসল উৎপাদনে বিশ্বাসী তিনি উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফলেয়া-চাঁদকাটি এলাকায় ৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন। 

তালা উপজেলার মাগুরা-পাটকেলঘাটা সড়কের পাশে ফলেয়া নামক এলাকায় এই ড্রাগন ফল চাষ করেছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে তিন থেকে চারটি করে কাঁচা, পাকা ও আধা পাকা ড্রাগন ফল। বাগানে কাজ করছিলেন ৪-৫ শ্রমিক। তাদের মধ্যে কয়েকজন গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করছিলেন। অন্যরা নিড়ানি দিয়ে আগাছা তুলছিলেন। প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার প্রতিটি কংক্রিটের খুঁটি পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। জমিতে রয়েছে ১২শ’ খুঁটি। খুঁটি থেকে খুঁটির দূরত্ব সাড়ে সাত ফুট দৈর্ঘ্য, সাড়ে ছয় ফুট প্রস্থ স্থাপন করে গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রত্যেক খুঁটিতে ৪টি করে ড্রাগন ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। ড্রাগন ফল গাছ খুব দ্রুত বাড়ে এবং মোটা শাখা তৈরি করে। একটি ড্রাগন ফল গাছ এক বছরে ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে। ড্রাগন ফল রোপণের এক বছরের মাথায় ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি ড্রাগন ফল ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম করে ওজন হয়। প্রতি কেজি ফল পাইকারি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়। ড্রাগন ফল চাষে অনেক খরচ হলেও এটি অনেক লাভজনক ফসল বলে তার দেখাদেখি অনেক চাষি এর চাষে ঝুঁকছেন।

ড্রাগন চাষি কলেজ শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান জানান, ইউটিউব দেখে শখের বশে তিনিই প্রথম উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছেন। ৭ বিঘা জমি বাৎসরিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লিজ নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। ফলের বাগান সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য মাসিক বেতনে দু’জন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেছেন, তারাই সবসময় ড্রাগন ফলের বাগান তদারকি করেন। প্রকল্প শুরু থেকে ফল ওঠা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। ড্রাগন ফল চাষে জমিতে খুব ভালো অবস্থানে আছে। 

বর্তমানে এ সময় তিনি শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে তারা যদি নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে ড্রাগন ফল চাষ করেন, তাহলে নিজের বেকারত্ব দূর হবে। পাশাপাশি মোটা অংকের টাকাও উপার্জন করা সম্ভব হবে। সরকার যদি ড্রাগন চাষের ওপরে ঋণের ব্যবস্থা করে তাহলে বেকার যুবকরা ড্রাগন চাষে আগ্রহী হবে, তাতে বেকার যুবকদের কৃষি পেশার ওপর দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তালা উপজেলায় ড্রাগন চাষ করেছেন শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান। ড্রাগন ফলের চাষ শুরুর পর থেকেই কখন কীভাবে গাছের পরিচর্যা নিতে হবে, সে বিষয়ে তাকে পরামর্শ দিয়ে আসছি। ড্রগন ফল চাষে জৈব সার একটু বেশি লাগে। রাসায়নিক সার কম লাগে। তাই অধিক লাভ করা যায়। তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক ড্রাগন চাষের জন্য পরামর্শ নিতে আসছেন। 

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, কৃষকদের পাশে তালা উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় আছে এবং সকল সহযোগিতায় করা হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //