পাবনায় ‘নির্বাচনী সহিংসতা’য় আহত ১৫

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পাবনার সুজানগর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। উপজেলা হাটখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে দশটার দিকে গুলাগুলি ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাটখালী ইউনিয়নের বারভাগিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন হাটখালী ইউনিয়নের বারভাগিয়া গ্রামের আজাহার আলী মোল্লা (৬৫), আজগর আলী মোল্লা (৬০), খাইরুল ইসলাম (৪০), রেহেনা খাতুন (৩৫) জুবায়ের হোসেন।

সুজানগর উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ খান বলেন, গত ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন থেকেই হাটখালী ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর লোকজন মারমুখী আচরণ শুরু করেন। তারই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে আমার ইউনিয়ন এলাকার বারভাগিয়া গ্রামে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে হামলা ভাঙচুর চালায়। রাতের আধারে অতর্কিতভাবে সাধারণ লোকজনের ওপর গুলি করলে আমাদের প্রায় ৬/৭ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে পাবনায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আমাদের লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা একই ইউনিয়নের নুরুউদ্দিনপুর বাজারে একটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে চলে যায়।

নৌকার প্রার্থী আব্দুর রউফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা হাটখালী ইউনিয়নে ঘটেনি। আমার জনপ্রিয়তা ও নিশ্চিত বিজয় দেখে আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছেন। এটি মূলত বারভাগিয়া গ্রামের বিশ্বাস ও মোল্লা গোষ্ঠীর নারী সংক্রান্ত ঝামেলা। এই ঝামেলাকে নির্বাচনী সহিংসতা দেখানোর অপচেষ্টা করে নির্বচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ খান। 

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এটি নির্বাচনী সহিংসতা নয়। হাটখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ খানের দুই গ্রুপের ঝামেলা হয়েছে। বারভাগিয়া গ্রামের দুটি পরিবারের ছেলে ও মেয়ের সম্পর্কের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ওই এলাকায়, পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, হাটখালী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুর রউফ ছাড়াও উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ খান আনারস প্রতীক ও সুজানগর উপজেলা আ.লীগের সদস্য আনছার আলী ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় জেলার সুজানগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //