খেতে পারছেন আকিব, তবে মাথার হাড় এখনও পেটে

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিব আগের চেয়ে ভালো আছেন। আকিবের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তরল খাবারের পাশাপাশি তাকে অন্য খাবারও দেওয়া হচ্ছে। আধো আধো কথা বলার পাশাপাশি সে এখন মুখে খেতেও পারছে। তবে মাথার হাড় এখনও তার পেটের ভেতরেই রয়েছে।

গত কয়েক দিনের তুলনায় বুধবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি দেখতে পান চিকিৎসকরা।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রঞ্জন কুমার নাথ বলেন, আকিবের ভালো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাকে সুস্থ করে তুলতে সবাই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, আকিবের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তরল খাবারের পাশাপাশি তাকে অন্য খাবারও দেওয়া হচ্ছে। আধো আধো কথা বলার পাশাপাশি সে এখন মুখে খেতেও পারছে। তার এসব ইতিবাচক সাড়া তাদের আশাবাদী করে তুলছে।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় গতকাল নগরের চকবাজার থানায় আরও একটি মামলা করেছেন সংগঠনের একটি অংশের নেতা ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমন সিকদার। ক্যাম্পাসে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মামলায় সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছাত্রলীগের ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দফায় মারামারির ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি ফেরদৌস জাহান জানান, চমেকে হামলার ঘটনায় আরেকটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রদের ওপর হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে এতে। এ ঘটনায় এর আগে অন্য একটি পক্ষ মামলা করেছিল। এ নিয়ে তাদের থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

গত শনিবার সকালে চমেকের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে মাত্র ৫০ সেকেন্ডেই ৮-১০ জন যুবক আকিবের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে আইসিইউতে আছেন কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী।

হামলার ঘটনায় ঘটনার দিন নগরের পাঁচলাইশ থানায় ১৬ জনকে আসামি করে প্রথম মামলাটি করেন শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারী তৌফিকুর রহমান। গত সোমবার সাবেক মেয়র নাছিরপন্থি মাহমুদুল হাসান ২৬ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় পাল্টা মামলা করেন। আকিবের ওপর হামলাকারী দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সাবেক মেয়র নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত শুক্রবার রাতে চমেক ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

এর জেরে শনিবার সকালে আকিবের ওপর হামলা চালানো হয়। থেঁতলে দেওয়া হয় তার মাথার হাড়। পুরো মাথায় লাগানো সাদা ব্যান্ডেজে চিকিৎসক লিখে দেন, হাড় নেই, চাপ দিবেন না। ওইদিনই অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //