ফেরি সংকটে অচলাবস্থায় কাজিরহাট-আরিচা নৌরুট

ফেরি সংকটে প্রায় দুই মাস ধরে কাজিরহাট-অরিচা রুটে চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাবনার কাজিরহাট ঘাটে আজ শনিবারও (১৫ জানুয়ারি) তিন শতাধিক ট্রাক পারের অপেক্ষায় রয়েছে। 

ফেরি স্বল্পতার কারণে এ নৌরুটে যাতায়াতের বিদ্যমান ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে; যার ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

টার্মিনাল এলাকায় পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ঘাটে অবস্থানরত ট্রাকের শ্রমিকরা। 


ভুক্তভোগীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ট্রাকশ্রমিক, নারী ও শিশুরা। ভাসমান দোকান থেকে অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। 

কজিরহাট ফেরি ঘাটের টার্মিনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবুল কাইয়ম বলেন, এ রুটের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের একটাই পথ- সেটি হলো আরও ফেরি যোগ করতে হবে। এর বিকল্প নেই। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ পরিবহন করপোরেশনের কাজিরহাট অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পাঁচটির মধ্যে তিনটি ফেরি চলাচলের বাইরে রয়েছে। ২ জানুয়ারি থেকে মেরামতের জন্য ফেরি কপোতি আরিচা ঘাটে নোঙর করা হয়েছে। এখন ক্যামিলী ও কদম নামে দু’টি ফেরি চলাচল করছে। তাও আবার মাঝে মধ্যে একটি ফেরি অকেজো হয়ে পড়ে। 

তিনি বলেন, এছাড়া পল্টুন স্বল্পতার কারণে ফেরি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফেরিঘাটে ঘাট-পল্টুন বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অনেকবার জানিয়েছি, পল্টুন ও ঘাট না বাড়ালে ফেরিঘাটের অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়। 

অন্য এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে এ ঘাটে দিনরাত ৪ শ’ থেকে ৫শ’ ট্রাকের সারি থেকেই যাচ্ছে। যতদিন আরও দুই থেকে তিনটি ফেরি এ রুটে যোগ না হবে; ততদিন সমস্যা থেকেই যাবে। 

তিনি জানান, নদীপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২৮ ডিসেম্বর রো-রো ফেরি শাহ মখদুমকে পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিসে পাঠানো হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর কে-টাইপ ফেরি ফরিদপুরীকে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে পাঠানো হয়েছে। 

ট্রাক চালক মোমিনুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার জন্য যশোর থেকে ঘাটে এসে তিনদিন অবস্থান করছেন। গতানুগতিক একই সমস্যা অর্থাৎ টয়লেট, গোসল-খাওয়া-থাকার সমস্যায় পড়েছেন। 

আলমাস আলী নামে আরেক এক ট্রাক চালক জানান, বুধবার রাতে তিনি কাজিরহাট ঘাটে পৌঁছান। শনিবার পর্যন্ত ফেরির টিকিট কাটতে পারেননি তিনি। 

হাসেম ও আব্দুল মিয়াসহ আরও অনেক ট্রাক চালক জানান, নদী পার হতে তাদের ফেরি ঘাটে পাঁচ-ছয়দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //