ঔষধি নিমগাছই রোগাক্রান্ত

গত কয়েক বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিমগাছে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে। বছরের একটা সময় গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিমগাছের রোগে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। পরিবেশের জন্য উপকারী নিমগাছ এখন নিজেই মরে যাচ্ছে। অথচ বন বিভাগ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। 

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এ নিয়ে গবেষণা করছে। ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বলছেন, আগে তারা আক্রান্ত নিমগাছে এক ধরনের পোকা পেয়েছিলেন। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আঠাঝরা রোগ। 

গবেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিমগাছে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে। বছরের একটা সময় গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। পরে আবার নতুন পাতা গজালেও সব গাছ আর আগের চেহারায় ফিরতে পারছে না। 

দুই বছর আগে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা (বন রোগতত্ত্ব) আহসানুর রহমান এবং চট্টগ্রামের দু’জন বিজ্ঞানী রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার নিমগাছ দেখতে এসেছিলেন। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিমগাছের মড়কের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের স্টেডিয়াম এলাকায় ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ নিমগাছও রোগে আক্রান্ত। তবে এই এলাকার গাছগুলো এখনো পুরোপুরি মরে যায়নি। গোমস্তাপুরের ভোগলা এলাকায় ৮০ শতাংশ, নাচোলের কালোইরে ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ গাছ আক্রান্ত হয়েছে। তবে মরে যাওয়ার দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিমগাছ মরে গেছে শিবগঞ্জের জগন্নাথপুরের। 

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন রক্ষণ বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা আহসানুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় সরেজমিন ঘুরে তাঁরা নিমগাছগুলোতে একধরনের পোকার উপস্থিতি পেয়েছিলেন। গত নভেম্বরে আক্রান্ত গাছগুলোতে আঠাঝরা রোগও দেখা যায়। কেন আঠাঝরা রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। 

সরকারি জায়গায় রোপণ করা নিমগাছগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে সামাজিক বন বিভাগ।

জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমান বলেন, নিমগাছের রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর তার জানা নেই। এ নিয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করে। তারা ব্যবস্থাপত্র দিলে সে অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। 

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালীগ্রামের শাহ কৃষিতথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ নিমগাছের পাতা, বীজ ও বাকলের রস দিয়ে বালাইনাশক তৈরি করেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, পরিবেশের জন্য উপকারী নিমগাছের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। সবাই এই গাছ থেকে উপকার পেতে চান; কিন্তু যত্ন নেওয়ার কেউ নেই।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //