রানা প্লাজার বেদখল জায়গায় ইউএনও'র কাঁটাতারের বেড়া

২৪ এপ্রিল নয় বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধস। এই দিন হাজারো শ্রমিক ভবনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। আহত ও পঙ্গুত্ব নিয়ে এখন অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনার পর দীর্ঘ দিন ধরে অযত্ন-অবেহলায় পড়েছিল রানা প্লাজার বিধ্বস্ত স্থানটি। পানিতে কচুরিপানা জন্মে পড়ে আছে বছরের পর বছর। আর সেই স্থানটির সামনে এত বছর ধরে দোকানপাট তুলে দখলের পায়তারা করে আসছিল প্রভাবশালী একটি চক্র। 

তবে আট বছর পর হলেও এত শ্রমিকের প্রাণহানির স্থানটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে স্থানটি। ইউএনও'র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রানা প্লাজার আহত শ্রমিকসহ শ্রমিক নেতারা।

রানা প্লাজার আহত শ্রমিক এমদাদুল ইসলাম বলেন, এই জায়গাটা দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাবশালীরা দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল। এমনকি এত শ্রমিকের প্রাণহানির জায়গাটিতে মূত্র ত্যাগের জায়গা বানিয়ে অপবিত্র করে রাখা হতো। রানা প্লাজা ঘটনার বর্ষপূর্তিতে এসেও আমরা নির্বিঘ্নে দিনটিকে স্মরণ করতে পারতাম না। এর মতো দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না। তবে এবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই দোকানপাট উচ্ছেদ করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এজন্য ইউএনও মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, 'রানা প্লাজা ধসের পর প্রথম অবস্থায় জায়গাটা টিন দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা ভেঙ্গে দোকানপাট তুলে জায়গাটা দখল করে রাখা হয়েছিল। প্রতিবছর রানা প্লাজার ঘটনার বর্ষপূর্তি আসার আগে আমি পুলিশের মাধ্যমে জায়গাটা পরিষ্কার করার জন্য উদ্যোগ নেই। কিন্তু এবার দুই দিন আগেই এসে দেখি দোকান গুলো উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করেছে। এরপর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ইউএনও ঘিরে দিয়েছেন। এই উদ্যোগটা ভালো। যাতে যায়গাটা দখলমুক্ত থাকে। কারণ এই জায়গায় দোকান গুলো থেকে প্রভাবশালী অনেকেই চাঁদাবাজি করে আসছিল।'

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'কিছু অবৈধ দখলকারীরা ছোট ছোট টং দোকান তুলে এটাকে দখল করার চেষ্টা করছিল। যেহেতু আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা যে, জায়গাটা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেই জায়গাটা প্রচারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং অ্যাসিল্যান্ডকে সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া আছে এটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য। যেহেতু সমগ্র জায়গাটার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের উপর বর্তাইছে। সেই অংশ হিসেবে আমি দেখলাম, এটা বেদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন সওজ এর কাজ শুরু হয় তখন ওনাদের সাথে আমি কথা বললাম যে, ড্রেনটা কোন দিক দিয়ে যাবে। যেহেতু ওখানে একটা নিহত শ্রমিকদের স্মরণে একটা ভাস্কর্য বসানো হয়েছে। তারা ওইটা ভাঙতে চাচ্ছিলো না। পরে আমরা ওইটাকে বাইপাস করে ড্রেনের ডিজাইনটা করে দেই এবং ড্রেনের কাজটা শেষ হওয়ার মুহূর্তে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমি জায়গাটা সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করলাম।'

এর আগেও জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে টিনের বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে স্থায়ী ভাবে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, 'পার্মানেন্ট (স্থায়ী) ভাবে আমরা এটা সংরক্ষণ করব। কিছু বাজেট পেলে জায়টাতে আমরা বাউন্ডারি (দেয়াল) করে দিব।'

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //