দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ পরবর্তী ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি

ঈদের পরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আগে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে তিনশ’র মধ্যে ছিল তা এখন পাঁচশত ছাড়িয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘন্টার অর্থাৎ ৭ মে বেলা ১২টা থেকে ৮ মে বেলা ১২টা পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫৪৬ জন। একই সময় সুস্থতা লাভ করেছেন পূর্বে আক্রান্ত ৪৫৮ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবশেষ আক্রান্ত মিলিয়ে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি হতে ৭ মে পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১১৩ জন। তবে চলমান প্রকোপের সময়ে ডায়রিয়ায় কারোর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছরের শুরুর দিকে বরিশাল বিভাগজুড়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে গরম বৃদ্ধির পাশাপাশি পানিশূণ্যতার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরো বেড়ে যায়। বিভাগের মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু থেকে সব বয়সী রোগীদের চাপ বেড়ে যায়।

এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঈদ পরবর্তী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। ঈদের আগে গত ২ মে বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭৩ জন। এদিন সুস্থতা লাভ করেন ৩৭৩ জন রোগী। ওই সময় চলতি বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজার ৫৩৭ জন।

এছাড়া ঈদের দিন অর্থাৎ ৩ মে দৈনিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩০৩ জন। ঈদের পর দিন অর্থাৎ ৪ মে ছিল ৩২৪ জন, ৫ মে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৬ জনে। পরবর্তী ৬ মে আক্রান্ত কমে ৪০৭ জন, ৭ মে আক্রান্ত হয় ৫১১ জন। এছাড়া ৮ মে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। 

ঈদ পরবর্তী ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩১১ জন হয়েছে। অর্থাৎ গত সাতদিনে ২ হাজার ৫৯৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাস হিসেবে ১২ হাজার ২৩২ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ৭ মে পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ জনে। 

এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পিরোজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ১৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরপর ঝালকাঠিতে ৯০ জন, ভোলায় ৮৭ জন, বরিশালে ৭৮ জন এবং পটুয়াখালী ও বরগুনায় জেলায় ৬৮ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে পিরোজপুর জেলা মোট ৫ হাজার ৭২০ জন, বরিশাল জেলায় ৮ হাজার ৬৯৮ জন, ঝালকাঠি জেলায় ২ হাজার ৮৫০ জন, পটুয়াখালীতে ৫ হাজার ৪৩৮ জন, ভোলায় ৬ হাজার ১৪২ জন এবং বরগুনা জেলায় ৩ হাজার ২৮৫ জন এখন পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মোট আক্রান্ত ৩২ হাজার ১৩৩ জনের মধ্যে ৩১ হাজার ৬৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, ঈদ পরবর্তী আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে সুস্থতার হারও অনেক বেশি। ঈদ পরবর্তী গরম, বিশুদ্ধ পানি ও খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যার কারণে ডায়রিয়া কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের পর্যপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। স্যালাইনের কোনো সমস্যা নেই। বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ৯৫ হাজার ২৫০টি এক হাজার সিসি এবং ৬১ হাজার ৮২১টি পাঁচশত সিসি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। এছাড়া ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল বিভাগে মোট ৪১৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। আশা করছি ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোনো সমস্যা হবে না। 

তবে চলমান পরিস্থিতিতে বাইরের খাবার বর্জন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //