লামার সেই পাড়ায় সহায়তা দিল চার সংগঠন

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে জুমভূমিতে একটি রাবার কোম্পানি আগুন দেয়ায় সেখানে খাদ্য সংকটে থাকা তিনটি পাড়ার বাসিন্দাদের চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৯ মে) সকালে বান্দরবানে চারটি পাহাড়ি সামাজিক ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে জানান সংগঠনের নেতারা।

চাল ও নগদ অর্থ দেওয়া চারটি সামাজিক ছাত্র সংগঠনগুলো হল বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, তঞ্চঙ্গ্যা ওয়েলফেয়ার স্টুডেন্টস ফোরাম ও খিয়াং স্টুডেন্ট ইউনিয়ন।

রেংয়ান ম্রো পাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়াং ম্রো বলেন, আজ সোমবার (৯ মে) সকালে কিছু ছাত্ররা এসে পরিবার প্রতি এক বস্তা চাল ও পাঁচশ টাকা করে নগদ অর্থ দিয়ে যায়। এরকম দুর্দিনে আমাদের বেশি উপকার হয়েছে। একটি ছোট পরিবার পুরো এক মাস চলতে পারবে। তবে বড় পরিবারগুলো পনের-বিশ দিন খেতে পারবে।

তার পাড়ায় ১১টি পরিবার চাল ও নগদ অর্থ পেয়ে সবাই খুশি হয়েছে। কেউ কেউ নগদ অর্থ পাওয়ার পর দ্রুত বাজারে গিয়ে তরকারি কিনেছে বলে জানান তিনি।

লাংকম ম্রো পাড়ার কারবারি লাংকম ম্রো বলেন, এর আগে কক্সবাজার রামু থেকে দুই ব্যক্তির পাঠানোর টাকায় সবাই দুই কেজি করে চাল পেয়েছিল। এরপর আজকে পঞ্চাশ কেজির এক বস্তা চাল ও ৫০০ টাকা করে পেয়েছি সবাই।

চারটি সামাজিক ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ক ও মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিলের বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি অংসিউ মারমা বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকায় প্রত্যেক পরিবারকে এক বস্তা চাল ও পাঁচশত টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৯ মে) সকালে আমাদের চারটি ছাত্র সংগঠনের দশজনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এই সব ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

‘‘যেহেতু খাবার সংকট চলছে সে কারণে তাদেরকে প্রথমে চাল দেওয়াটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর নগদ অর্থ দিয়ে জরুরী আরও কিছু কিনতে পারবে তারা।’’

এদিকে গতকাল রবিবার (৮ মে) রাবার কোম্পানির লোকজনের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসমাগ্রী বিতরণ করায় এসব ত্রাণসামগ্রী ফিরিয়ে দিয়েছিল তিন পাড়াবাসী। এসব ত্রাণসামগ্রী আবার মঙ্গলবার পাঠানো হবে শুনলাম। এখন তিন পাড়াবাসী এসব ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাংকম ম্রো পাড়ার বাসিন্দা যোহন ম্রো।

২৬ এপ্রিল লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ডলুঝিরি মৌজায় লাংকম ম্রো পাড়া, রেংয়াং ম্রো পাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়া ৪০০ একর এলাকায় একটি রাবার কোম্পানি জুমভূমি ও বনজঙ্গল কেটে পুড়িয়ে দেয়। এতে ৩০০ থেকে ৩৫০ একর এলাকাজুড়ে আগুনে পুড়ে বিরানভূমিতে পরিণত হয়।

বাঁশ-কাঠ কেটে ও বিভিন্ন ফলমূল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা সেখানকার ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর তিনটি পাড়ার বাসিন্দারা খাদ্য সংকটে পড়ে।

লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, কোম্পানির ইজারা নেওয়া ৪০০ একরের জায়গার মধ্যে রাবার চারা ও কাজু বাদাম লাগানোর জন্য জঙ্গল আগুন লাগানো হয়েছিল। এতে পাড়াবাসীর কারও কোন ঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সবার ঘর অক্ষতই আছে।

ডলুঝিরি মৌজার হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা বলেন, ওই ৪০০ একর এলাকায় তিন পাড়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে জুমচাষ করে আসছিলেন। ২০২১ সালে এসে একটি রাবার কোম্পানি তাদের ইজারা পাওয়া জায়গা বলে দাবি করেন। কিন্তু আমার তজিভুক্ত জায়গায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ  নামে কোন জায়গা নাই।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //