নেত্রকোণায় ৭ উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, প্লাবিত ১০

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোণায় নতুন অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, জেলার ১০ উপজেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সাত উপজেলার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

গত শুক্রবার সারা রাতের বৃষ্টিতে নেত্রকোনা সদর, পূর্বধলা, কেন্দুয়া ও আটপাড়াও প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেত্রকোণা-মোহনগঞ্জ রেলপথের বারহাট্টা উপজেলার অতিথপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন ইসলামপুর এলাকার রেলসেতুটিও। এতে নেত্রকোণা থেকে সারাদেশের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৭টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য উপজেলাগুলোর কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সচল থাকলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকায় মুঠোফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, বারহাট্টাসহ সাতটি উপজেলায় বন্যার পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কলমাকান্দায় প্রায় ৯২ শতাংশ, খালিয়াজুরিতে ৯৫ শতাংশ ও দুর্গাপুরে ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। ১০টি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত আট লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার সাথে ইউনিয়ন ও জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ৬ উপজেলায় ২০৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ঠাঁই নিয়েছে।

তবে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন। তবে জনসংখ্যার তুলনায় এসব ত্রাণ-সামগ্রী অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, বন্যার কারণে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, খালিয়াজুরিসহ জেলার সাতটি উপজেলার কিছু সাবস্টেশন বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের মোট ৫ লাখ ৯২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রয়েছে। পানি কমে গেলেই আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। 

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস বলেন, বন্যাদুর্গতদের পাশে আমরা আছি এবং থাকব। এ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ-খবর রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কট্রোলরুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীসহ সরকারি সব সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। 

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //