দেশে ফেরার দাবিতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য নানা দাবি তুলে ধরে সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। আজ রবিবার (১৯ জুন) সকালে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘লেটস গো হোম’ ব্যানার নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন রোহিঙ্গারা।

যেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার পাশে লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি ব্লকে নিজ কার্যালয়ে গতবছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয় রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবউল্লাহকে। এর আগে এমন সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুহিবউল্লাহ।

এই সমাবেশে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।

সমাবেশে আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর থাকতে চাই না। নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। বিশ্ববাসীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করুন। পাশাপাশি বিপুল রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসপি নাইমুল হক জানান, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এপিবিএন পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

আগামীকাল ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ উপলক্ষে আজ ১৯ জুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একসাথে পৃথক পৃথক স্থানে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ ব্যানারে কয়েকটি সমাবেশের আয়োজন করে।

এর আগে বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আর মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না রোহিঙ্গারা। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মাস্টার মুহিববুল্লাহর নেতৃত্বে। কিন্তু এবারের বিশাল সমাবেশে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তাদের ব্যানারে  আয়োজকের স্থলে ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে এবারো সমাবেশ আয়োজনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে নিয়ে নেতৃত্বে দিচ্ছে প্রয়াত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহর হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস। এ সমাবেশ থেকে ১৮টি দাবি উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

দাবিগুলো হলো, রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকতে হবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন হতে হবে, সীমিত সময় রাখা যাবে মিয়ানমার ট্রানজিট ক্যাম্পে, প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করতে হবে, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিও, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া বার্মার ১৯৮২ সালের  নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ ইত্যাদি দাবি রাখা হয়েছে ।

রবিবার (১৯ জুন) পাঁচটি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা একসাথে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর ফুটবল মাঠে সমবেত হয়। সকালে  শুরু হয় সমাবেশ। সেখানে একসাথে যোগ দেয় ক্যাম্প-৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নাম্বারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। তবে বাকি ক্যাম্পগুলোর রোহিঙ্গারা পৃথক পৃথক স্থানে সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি জানতে চাইলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানাচ্ছে। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ছাড়া রোহিঙ্গাদের বড় কোনো জমায়েত কিংবা বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

উখিয়ার ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমরা নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই। আমাদের আশা এবারের সমাবেশের মাধ্যমে উত্থাপিত রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাবে।

রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিন মং বলেন, সম্মান ও মর্যাদার সাথে মায়ানমারে ফিরতে চাই আমরা। সমাবেশে আমরা এই দাবিটাই জানাচ্ছি বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম  জানান, ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। ক্যাম্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অপ্রিয়কর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। 

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //