দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়া: পাঁচ হাজারে নেমেছে মাসিক আক্রান্ত

নিয়ন্ত্রণে এসেছে দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়া পরিস্থিতি। সেই সাথে কমতে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যাও। তবে বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে ভোলা এবং পিরোজপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার কিছুটা বেশি বলে দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবের কারণে এই দুটি জেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতি অতটা ভয়াবহ নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার কমে আসায় গত এক মাসে বিভাগের ছয় জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন পাঁচ হাজার ৬৪৪ জন। এর আগের মাসে অর্থাৎ গত ৫ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৯ হাজার ৩২৪ জন। ওই মাসে আক্রান্ত থেকে সুস্থ হন ৭ হাজার ৮৮৬ জন।

এদিকে চলতি মাসে গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৩ জন। আগের মাসে অর্থাৎ ৫ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয় ২১০ জন। সে হিসেবে বর্তমান সময়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা দেড়শতর নিচে। তাছাড়া চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ডায়রিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৩০৮ জন। গত মাসের পাঁচ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ২৫৪ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থতা লাভ করেছেন ৪৮ হাজার ৩৮০ জন। সে হিসেবে বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন ৯২৮ জন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বিভাগের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা এবং ঝালকাঠি জেলায় দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছেন ১০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে। তবে দ্বীপ জেলা ভোলা এবং পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে দৈনিক আক্রান্ত ৩০ জনের ওপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি জেলার মধ্যে ভোলায় ৩৬ জন এবং পিরোজপুরে ৩২ জন আক্রান্ত হয়েছে। অবশ্য এ দুটি জেলায় আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি নয় দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের।

কেননা পূর্বে পাঁচ জুলাইয়ের পূর্বে থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক আক্রান্ত ৪৫ জনের ওপরে ছিল পটুয়াখালীতে। এছাড়া ভোলা এবং পিরোজপুরে যথাক্রমে ৪৬ এবং ৪০ জন আক্রান্ত ছিলো। এখন তা ৩০ এর ঘরে নেমেছে। সব মিলিয়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. হুমায়ুন শাহীন খান।

তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে ডায়রিয়া পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়। তবে সেটা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে ডায়রিয়ার উপদ্রব এলাকা নেই বলেই বিবেচিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম নিয়মিত কাজ করছে। পূর্বে যখন ডায়রিয়ায় দৈনিক আক্রান্তের হার পাঁচশর ওপরে ছিলো যে ৪১৩টি মেডিকেল টিম কাজ করেছে সেই একই সংখ্যক টিম এখনো কাজ করছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন এবং আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। বর্তমানে জেলা এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে হাজার সিসি আইভি স্যালাইন ৭৩ হাজার ৪১৪টি এবং পাঁচশ সিসি ৩৬ হাজার ৬৪৩টি আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। 

তিনি বলেন, আশা করছি স্যালাইনের কোন সংকট সৃষ্টি হবে না।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //