যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৮ বছর পর স্বামী ওসমান আলীকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

আজ সোমবার (৮ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নীলুফার শিরিন এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওসমান আলী ঝিকরগাছার দিঘড়ি গ্রামের আক্কাজ আলীর ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। 

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছার সোনাকুড় গ্রামের সন্তোষ আলীর মেয়ে রাশিদা খাতুনকে বিয়ে করে ওসমান আলী। একটি সন্তান জন্মের পর থেকে ওসমান যৌতুকের দাবিতে রাশিদার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। 

২০০৪ সালের ৭ মার্চ রাতে ওসমান আলী বাড়িতে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে আসে। গভীর রাত পর্যন্ত তারা আনন্দ ফুর্তি করে। পরদিন সকালে রাশিদার লাশ ঘরে ফেলে স্বামী ওসমানসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ওসমান আলীর বাড়িতে আসে।

এ ঘটনায় পাঁচদিন পর নিহতের বাবা সন্তোষ আলী বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে ওসমান আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আসামিরা হলেন- দিঘড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিহতের স্বামী ওসমান আলী, সাবুলের ছেলে কুতুব আলী, রজবালীর ছেলে ফজর আলী, আব্দুল খালেকের ছেলে সাদেক আলী ও আব্দুল্লাহ গাজীর ছেলে মাহাবুবুর রহমান ওরফে কালু। আদালতের আদেশে ৩ মে ঝিকরগাছা থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। এ মামলার তদন্ত শেষে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় ওই বছরের ৪ জুলাই নিহতের ওমসান আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান। চার্জশিটে অপর ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। 

দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি ওসমান আলীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওসমান আলী পলাতক আছেন।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বিষয় : যশোর হত্যা

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //