ICT Division

নারায়ণগঞ্জে নিহত যুবদল কর্মীর বাড়িতে মির্জা ফখরুল

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত যুবদলকর্মী মো. শাওনের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সেখানে  যান তিনি।

এর আগে, মির্জা ফখরুল শাওনের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তার মা ফরিদা বেগমের সাথে কথা বলেন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এসময় তার হাতে দলের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান তুলে দেন মির্জা ফখরুল। এসময় তার সাথে ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নাসহ স্থানীয় নেতারা।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জে শাওনের বাড়িতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুবদল কর্মী শাওন হত্যা—এটা শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, একটি আদর্শকে হত্যা, গণতন্ত্র ও মানুষের স্বপ্নকে হত্যা। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যারা শাওনকে গুলি করে হত্যা করেছে, অবিলম্বে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমরা গণতন্ত্রের জন্য বারবার সংগ্রাম লড়াই করছি। আজকে এই সরকার, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী সরকার। তারা গুলি করে, হত্যা করে, গুম করে আজকের আন্দোলনকে দমন করতে চায়। আজকে বিরোধী দলের কর্মীদের তারা রাজপথে হত্যা করছে। তারা মানুষকে অত্যাচার করছে, নির্যাতন করছে। এই আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।

‘শাওন বিএনপির কর্মী না’—পুলিশের এমন দাবি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে তারা। শাওন যুবদলের কর্মী, এটা সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে মির্জা ফখরুল উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার ভাই শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই শাওনের আত্মত্যাগ এ দেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে। এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে। আজকে দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার, তারা এই দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গণতন্ত্রের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের ন্যূনতম যে অধিকার, আমরা আমাদের রাজনীতির কথা বলব, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে এ জন্য শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব। কিন্তু সেই অধিকারটুকু তারা কেড়ে নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি করে শাওনকে হত্যা করা হয়েছে। এই গণতান্ত্রিক দেশে এটা চলতে পারে না। শুধু শাওন নয়, নুরে আলম ও রহিমকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, নড়াইল, কুমিল্লাসহ অসংখ্য জায়গায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে।

বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কখনো সন্ত্রাস ও ভায়েলেন্সে বিশ্বাস করি না। পুলিশ ভাই ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা আমাদের শত্রু নন। আপনারা এই দেশের সন্তান। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আপনাদেরও দায়িত্ব। শুধু আওয়ামী লীগের কথা শুনে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি করা আপনাদের দায়িত্ব নয়। আমরা অনুরোধ করব, আপনারা অন্যায় কোনো হুকুম মানবেন না। এই হত্যা হচ্ছে, এই হত্যার জন্য একদিন না একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই অনুরোধ করব, অন্যায়ভাবে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে হত্যা করবেন না।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে পুলিশের বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //