টাঙ্গাইল পৌরসভার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে নিন্মমানের ইটের খোয়া ও নতুনের সাথে পুরাতন রড মিলিয়ে তিন হাজার ৪২ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন টাঙ্গাইল পৌরবাসী। 

এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলছেন ড্রেনের নিচের যে অংশে ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে সেটি আসলে সিডিউলে ধরা নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন সিডিউলে সম্পূর্ণ ঢালাই পাথর এবং নতুন রড দিয়েই করার কথা উল্লেখ্য রয়েছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প প্রকল্পের তিন হাজার ৮২ মিটার ড্রেন নির্মাণ ও ১৫১৫ মিটার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দাস ট্রেডার্স। যার চুক্তিমূল্য ১৪ কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ টাকা। এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৩ সালের ২৯ জুন।

রাস্তার দুই পাশে নির্মাণ করা ড্রেনের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ড্রেনের একেবারে নিচের অংশে ঢালাই করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন ড্রেনের ইটের খোয়া এবং রড। স্থানীয়রা বলছেন পুরাতন ইট থেকে যে খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো একেবারেই নিন্মমানের। এছাড়া পুরাতন ড্রেন থেকে যে রড বের করা হয়েছে সেগুলো আবার নতুন রডের সাথে মিলিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। যেভাবে এই নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে কতদিন টিকবে ড্রেনগুলো তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন পৌরবাসী।

ড্রেনের কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক জানান, নিচে যে ৫০ মিলি ঢালাই করা হচ্ছে তাতে পুরাতন ইটের খোয়া ও মাঝে মাঝে পুরাতন রড ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতে বলেছেন সেই ভাবেই কাজ করছেন। তবে ঢালাই করা খোয়া একেবারেই নিন্মমানের বলে তিনি স্বীকার করেন।

সরজিমনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের জেলা সদর রোডে পুরাতন রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে পুরাতন ইটের খোয়া। সেখানেই বালু আর সিমেন্ট মিশিয়ে ড্রেনের নিচের অংশে ৫০ মিলি ঢালাই করা হচ্ছে। এরপর ড্রেনের দুই পাশের এবং  উপরে ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন রডের সাথে পুরাতন রড। এ নিয়ে কয়েকজন প্রতিবাদ করলেও কোন লাভ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তার প্রভাবে দিন রাত তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার পায়তারা করা হচ্ছে।

১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামুনুর রহমান জানান, নতুন করে যদি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয় তাহলে সবকিছু নতুন ব্যবহার করা উচিৎ। কিন্তু তা না করে নিন্মমানের খোয়া ও পুরাতন রড ব্যবহার করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা এই ড্রেনে। কয়েকদিন পর ড্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে।

মোসলেম উদ্দিন নামের আরেক বাসিন্দা জানান, শুনেছেন এই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে যে টাকা ব্যয় হবে সেই টাকা নাকি পৌরসভা ঋণ করেছেন। এই টাকাতো তাহলে জনগণের ঘারেই পরলো। তাহলে জনগণের সুবিধার জন্য যদি নতুন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয় তাহলে ভাল করেই নির্মাণ করা দরকার। এভাবে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন বা রাস্তা করলে কয়েকদিন যেতে না যেতেই রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে আর ড্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে করে তার মতো সাধারণ বাসিন্দাদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী পাপন ভানু জানান, মূলত কাজে আমার লাইসেন্সটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারপরও কিছুটা আমার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সিসি ঢালাইয়ে খোয়াগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ব্যবহার করার কথা। কিন্তু তা করা হচ্ছে কি না তা জানা নেই। তবে বর্তমানে পৌরসভার তিনজন প্রকৌশলী বরখাস্ত হওয়ার কারণে এই কাজে এখন কোন তদারকি করার লোক নেই। যদি থাকতো তাহলে হয়তো কাজে কোন অনিয়ম হতো না।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //