সিরাজগঞ্জে অসময়ে যমুনায় ভাঙন

নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে নেই কোন উদ্যোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে নদী ভাঙন চললেও খণ্ড খণ্ড পরিকল্পনায় রোধের চেষ্টা চালালেও যুগোপযোগী পরিকল্পনার অভাবেই বার বার ভাঙনের কবলে পড়ছে চৌহালী।

একে তো শীতের প্রকোপ। তার উপর অসময়ে যমুনা নদী ভাঙনের কবলে আবারো দিশেহারা হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মানুষ। গত কয়েক এক সপ্তাহে উপজেলার বাঘুটিয়া  ইউনিয়নের বিনানই থেকে চরসলিমাবাদ ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় আবারো শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন।

ভানের কবলে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার, ৫০টি বসতবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ ফসলী  জমি। এখনো হুমকির মুখে রয়েছে বিনাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভূদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভূদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌবারিয়া বি.এম কলেজ, বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজসহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 

দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এখনো দেখা মেলেনি স্থায়ী বাঁধের। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চৌহালী নদী ভাঙনের কবলে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় গৃহহীন অনেক মানুষই চৌহালী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখনো স্থায়ী সমাধান না মিললে আবারো গৃহ হারাবে হাজারো মানুষ।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের মো. জব্বার আলী, জসিম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, অসময় যমুনার তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

চরসলিমাবাদ গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, আমার ষাট বছর বয়সে পৌষ মাসে নদী ভাঙ্গে কখনো দেখিনাই, এখন ঘড় বাড়ি নিয়ে কথায় যাবো তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। আমাদের এলাকার অবশিষ্ট অংশটুকু বাঁধ দিয়ে রক্ষা করলেও নদীর পাড়ে আমরা বসবাস করতে পারতাম।

বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মোল্লা বলেন, চৌহালির দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ সবসময় নদী ভাঙনের হুমকিতে থাকেন। তবে এ বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন রোধে বিনাইন এবং চরসলিমাবাদ গ্রামের  ৯০০  মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জিওব্যাগ ধ্বসে গিয়ে আবারো নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসময়ে নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান জানালেন, ইতিমধ্যেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য নতুন পরিকল্পনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //