চুয়াডাঙ্গায় জনবল সঙ্কটে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত

৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। জনবল সঙ্কটে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রেষণে আসা চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল হাসপাতালের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে নিজেদের উপার্জনের কাজে বেশি সময় ব্যয় করছে। যার ফলে প্রেষণে থাকা জনবল কোন কাজে আসছে না।

চুয়াডাঙ্গায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে গরম আবহাওয়ায় ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, ঠান্ডা, জ্বর-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। ৫০ শয্যার জনবল নিয়ে চলছে ১০০ শয্যার এ হাসপাতাল। চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছেন ৩ থেকে ৪ গুণ রোগী। জনবল সঙ্কটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা, বরাদ্দ না থাকায় রোগীদের তিন বেলা খাবার ভাগ করে দিতে হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা  সদর হাসপাতালের দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রথম শ্রেণির ২২টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে ৯টি পূরণকৃত ও ৬টিতে মঞ্জুরীকৃত জনবল এবং বাকি ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ২২টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ৫টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ১টি পদে জনবল রয়েছে। পূরণ করা হয়েছে সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক ও সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক ও সার্জারি), মেডিকেল অফিসার ৩টি পদ, ডেন্টাল সার্জন, এম.ও হোমিও এবং আয়ুর্বেদিক পদ। সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি) ও মেডিকেল অফিসার ১টি পদে জনবল শূন্য রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য মূল কর্মস্থল ঢাকা মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (বর্তমানে পদায়কৃত কর্মস্থল) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন ২০১৬ সাল থেকে এ হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২০১৪ সাল থেকে সংযুক্ত রয়েছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডলজি) ডা. মো. আবুল হোসেন ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. হোসনে জারি তহমিনা, আলমডাঙ্গা হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংযুক্ত রয়েছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মো. মাহবুবুর রহমান মিলন ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিয়লজী) নুরে আলম আশরাফী এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্স থেকে সংযুক্ত ডা. মো. আসাদুর রহমান মালিক। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলা ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে ২০১৯ সাল থেকে তিনজন মেডিকেল অফিসার সদর হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন।

দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৭টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে নার্সিং সুপারভাইজার ২টি পদই শূন্য, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৫৪টি পদের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত পদে রয়েছেন ৫১ জন, এ পদে ২টি পূরণ করা হলেও নেই ১টি, স্টাফ নার্স ১১টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে সব কটি রয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির ৩৫টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে ২৭টি পদ পূরণ করা হয়েছে, মঞ্জুরীকৃত ৩টি পদে জনবল রয়েছে। এরা হলেন, একজন অফিস সহকারী, হেলথ এডুকেটর একজন, মেডিসিন টেকনিশিয়ান (ইকো) একজন। অন্য স্থান থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক একজন, ফার্মাসিস্ট তিনজন, এমটি (ল্যাব) চারজন, রেডিওগ্রাফী দুইজন, এমটি (ডেন্টাল) একজন, এমটি (ইপিআই) একজন, স্টোর কিপার একজন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (এ্যানেসথেসিয়া) তিনজন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) তিনজন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইকো) একজন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইসিজি) দুইজন, সহকারী নার্স একজন, ড্রাইভার দুইজন, হোমিও কম্পাউন্ডার একজন, হোমিও গার্ডেনার একজন। হেলথ এডুকেটর একজন ও সহকারী নার্স চারজন পদ শূন্য রয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির ১৪৮টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে রয়েছেন চারজন। এর মধ্যে এম.এল.এস.এস. রয়েছেন দুইজন ও সুইপার দুইজন। অন্য স্থান থেকে পূরণ করা হয়েছে এম.এল.এস.এস. সাতজন, সুইপার একজন ও ডোম একজন। কুক/মশালচী তিনজন, এম.এল.এস.এস. চারজন, সুইপার চারজন পদ শূন্য রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. উম্মে ফারহানা জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে এ হাসপাতাল। এখানে শয্যার বিপরীতে ৩-৪ গুণ বেশি রোগী সব সময় চিকিৎসার জন্য ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তাপপ্রবাহে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রোগীদেরকে হাসপাতাল থেকেই ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ায় এর অধিক ভর্তি রোগীদের খাদ্য চাহিদা মেটানো যাচ্ছেনা। ১০০ শয্যার জন্য তৈরি করা খাবার ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েক দিনের ব্যবধানে রোগী বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে  রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ জনবল আছে, সেটা দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। জনবল বাড়ানো হলে রোগীদের সেবা দিতে সুবিধা হতো। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও ওষুধ আছে। রোগীদের সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //