এবার ডিজিটাল ঢেঁকি

এক সময় গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় দেখা মিলত ঢেঁকির; বিশেষ করে গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে। গৃহস্থের জমির পাকা ধান বাড়িতে এলে ব্যস্ততা বেড়ে যেত। ঢেঁকিছাঁটা পুষ্টিসমৃদ্ধ চালের চাহিদাও ছিল তুঙ্গে। এখন ঢেঁকি নেই। গাঁয়ের বধূদের একত্রিত হয়ে ঢেঁকি পাড়ানোর চিত্রও দেখা যায় না। তবে ঢেঁকি ঘিরে গাঁয়ের বধূদের জটলা চোখে পড়বে যশোরের একটি গ্রামে। পা ও গায়ের শক্তি ছাড়াই অটোমেটিক ঢেঁকি পাড়ানোর দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় করছেন নারীরা।

ঢেঁকি শিল্পের ঐতিহ্যে প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়েছেন যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁদপাড়া গ্রামের মাহাবুবুর রহমান। তিনি উদ্ভাবন করেছেন বৈদ্যুতিক ঢেঁকি, যা ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’ নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। তার ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’তে ধুম পড়েছে নতুন ধানের চাল ও চালের গুঁড়া তৈরির। ঢেঁকিছাঁটা চাল ও পিঠা-পুলির জন্য চালের গুঁড়া করতে দলে দলে আসছেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। থেমে দেখছেন পথচারীরা। 

মাহাবুবুর রহমান দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ১০-১২ বছর বয়সে যুক্ত হন কাঠ মিস্ত্রির পেশায়। তৈরি করেছেন পা দিয়ে চালিত অসংখ্য ঢেঁকি। তৈরি করতে করতে ভাবতেন এটা যদি যন্ত্রের মাধ্যমে চালিত করা যেত তাহলে নারীদের কায়িক শ্রম লাঘব ও অর্থ সাশ্রয় হতো। সেই সংকল্পে অটল ছিলেন। 

গত তিন বছর আগে তৈরি করেন ডিজিটাল ঢেঁকি। কিন্তু প্রথমবার সেটা টেকসই হয়নি। এরপরও চেষ্টা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১ বছর হলো আধুনিক পদ্ধতিতে স্থাপন করেছেন ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’। এখন বিদ্যুতের সুইচ অন করলেই ঢেঁকিতে ধান ভাঙানো শুরু হয়ে যাচ্ছে।

প্রাচীন ঢেঁকিতে ধান থেকে চাল বের করা হতো ঢেঁকির প্রথম প্রান্তে পা দিয়ে পালাক্রমে চাপ প্রয়োগ করে। আর এ ঢেঁকিতে বিদ্যুতের মাধ্যমে মোটরচালিত লোহার হাতল দিয়ে পালাক্রমে চাপ দিয়ে ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বের করা হয়। এতে সময়, শ্রম ও খরচ হচ্ছে কম। এ ছাড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে ঢেঁকি ছাঁটা চাল। এ চালের ফাইবার নষ্ট না হওয়ায় পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যসম্মত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাহাবুবুর রহমান।

মাহাবুবুর রহমান জানান, নিজে এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক হলেও তিনি ডিজিটাল ঢেঁকিতে ধান থেকে চাল করতে শ্রম দিচ্ছেন। এ কাজে তার স্ত্রী শাপলা খাতুন ও বৃদ্ধা মাতা সালেহা খাতুন সহযোগিতা করে থাকেন। এ ঢেঁকির মাধ্যমে দিনে ৫-৬ মণ ধান এবং ১০০ কেজি চাল থেকে গুঁড়া করা সম্ভব বলে জানালেন তিনি। 

মাহাবুবুর রহমান জানান ইতোমধ্যে তার ডিজিটাল ঢেঁকির সুনাম বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিন তার এই আবিষ্কার সম্পর্কে জানার জন্য তাকে ফোন দেন। ইউটিউবসহ ফেসবুকে তার ডিজিটাল ঢেঁকির ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তার ঢেঁকি ছাঁটা চাল অনলাইনে বিক্রিও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এখন ভালো অবস্থায় আছেন মাহাবুবুর রহমান।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //