ঠাকুরগাঁওয়ে ফসলি জমি খনন করে মাটি বিক্রি, নষ্ট হচ্ছে সড়ক

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে অনুমোদন ছাড়াই মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। দিনে এবং রাতে ভেকু মেশিন দিয়ে জমি খনন করে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে এলাকার কয়েকটি ইটভাটায়। এছাড়াও কেটে নেওয়া হচ্ছে নদীর মাটিও। ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি পরিবহন করায় ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা। ধুলোবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার ২ নং নেকমরদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর জোটপাড়া/মহেশপুর সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে সোনালী ব্রিকস গিয়ে মাটি কাটার চিত্র চোখে পড়ে। এই স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ভেকু মেশিন (এস্কেভেটর) দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে গত তিনদিন ধরে। পরে কেটে নেওয়া মাটি কয়েকটি মিনি ট্রাকে করে নেওয়া হয় পাশের একটি ইটের ভাটায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবুজ আলী নামের এক ব্যবসায়ী অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সবুজ আলী জানান, তার মাটি কাটার অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া কিভাবে মাটি কাটছেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

একই উপজেলার ধর্মগড়, কাশিপুর, রাতোর, বাচোর, নন্দুয়ার, লেহেম্বা, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ থেকে মাটি ব্যবসায়ীরা মাটি কেটে বিক্রি করছেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর এবং পীরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।

এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফসলি জমির মালিকরা স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করে মাটি বিক্রি করছেন। মাটি বহনকারী বিভিন্ন যানবাহনের দাপটে রাস্তাগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি মাটি বহন করার সময় ধুলাবালিতে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিক্রেতারা প্রতি মহেন্দ্র ট্রাকটর মাটি বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। মাটি বহন করার  সময় এসব গাড়ির কারণে আশপাশের জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার শুরু হয় মাটি খননের কাজ।

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আর্নিকা আক্তার বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি খননের খবর পেলেই আমরা তা বন্ধ করে দেই। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই। এখনো মাটি খনন চলছে কিনা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান বলেন, ‘অনুমোদন ছাড়া ফসলি জমির মাটি খনন ও বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যারা করছেন তারা অনুমোদন না নিয়ে গোপনে করে থাকতে পারেন।’

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের তরফ থেকে যেখানেই অভিযোগ আসছে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //