পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আইন রক্ষার দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ সালের আইনকে বাতিল না করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পাহাড়ে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের লোকজন।

গতকাল সোমবার (৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান জেলা শহরে প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এতে জেলার ১১টি নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠন ও ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন।

১৯০০ সালের পার্বত্য শাসনবিধি আইন পাহাড়িদের রক্ষাকবচ। এটি বাতিল করা হলে পাহাড়ি অস্তিত্বের সম্মুখীন হবে জানিয়ে বক্তব্য দেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সামাজিক রীতিনীতি ও প্রথাগত চর্চাকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্রিটিশ আমলে করা হয় ১৯০০ সালের আইন। যা হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল নামেও পরিচিত। এ আইনের অধীনে পাহাড়ে অধিবাসীরা সামাজিক জীবন পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথাগত আইন, রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি সামাজিক বিচারগুলোও করা হয়।

এই আইন বাতিল করার জন্য হাইকোর্টের শুনানি চলছে। এই আইন বাতিল করা হলে পাহাড়িরা অস্তিত্বের সম্মুখীন হবে বলে জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে হেডম্যান-কারবারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও তারাছা মৌজার হেডম্যান হ্লথোয়াইহ্রী মারমা বলেন, পার্বত্য শাসনবিধি ১৯০০ আইন পাহাড়িদের সামাজিক রীতিনীতি ও অস্তিত্বকে সুরক্ষা করে আসছে। পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও এই আইনকে যথাযথ সম্মান দিয়ে বলবৎ রাখা হয়েছে। এখন দীর্ঘদিন ধরে এই আইনকে বিলুপ্ত করার জন্য একটা ষড়যন্ত্র চলছে।

১৯০০ শাসনবিধি আইনকে বাতিল করা হলে এখানকার সংস্কৃতি ও বৈচিত্রতা হারাবে। এছাড়া এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী। আইনটি আগের মত বহাল রেখে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে।

ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য দেন হেডম্যান-কারবারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উনিহ্লা মারমা, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং মারমা, ছাত্রনেতা মংচসিং মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার জেলা কমিটির সভাপতি বিরুলাল তঞ্চঙ্গ্যা।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিলিপ প্রদান করা হয়।

২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বিভাগীয় বেঞ্চ ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে একটি মৃত আইন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০' আইনকে জীবিত ও বৈধ আইন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলবৎ রাখে।

২০১৮ সালে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ ও আব্দুল মালেক নামে দুজন ব্যক্তি আবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায়ের বিরুদ্ধে দুটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন। চলতি মাসে এই রায়ের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //