জাপানি অ্যানিমে বিশ্বব্যাপী এত জনপ্রিয় কেন

জাপানি অ্যানিমেশন বা অ্যানিমে বিশ্বব্যাপী বিনোদনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অ্যানিমে সিরিজগুলোর চমৎকার গল্প বলা, আকর্ষণীয় চরিত্র, স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন থিম ও আবেগ ব্যবহার করে এগুলো বানানো হয় ও এর নির্মাণে যথেষ্ট দক্ষতাও দেখানো হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী এর ফ্যানবেস তৈরি হয়েছে এবং নানা সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। 

১৯৭৯ সালের শুরুর দিকের কথা। তখন জাপানি টেলিভিশনে দৈত্যাকৃতির একটি রোবট নিয়ে কার্টুন সিরিজ প্রচার শুরু হলো। যার নাম ছিল ‘মোবাইল স্যুট গুন্ডাম’; কিন্তু সেই সিরিজটি দর্শকপ্রিয়তা পেল না! তাই ১২ মাস চলার কথা থাকলেও মাত্র ১০ মাসে বন্ধ করে দেন নির্মাতারা। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো-ওই সিরিজটির নির্মাতারা খেয়াল করলেন, কার্টুনের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মানে সিরিজটি দর্শকপ্রিয় না হলেও কিছু ভক্ত তৈরি হয়েছিল। তারা এই সুযোগটি নিতে চাইলেন। তারপর আরও কমিক সিরিজ, চলচ্চিত্র, কমিক বই, ভিডিও গেমস, খেলনাসহ অনেক কিছু বানাতে শুরু করলেন। 

এমআইটির মিডিয়া স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ও এমআইটির বিদেশি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান ইয়ান কন্ড্রি বলেন, ‘গুন্ডাম’ দৈত্যাকার রোবট সিরিজটি ব্যর্থ হয়েছিল; কিন্তু এর মাধ্যমে কার্টুন সিরিজের কিছু ভক্ত তৈরি হয়। আর তারা এখন ৩৬ বছরের পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। 

সেই যে শুরু, তারপর থেকে জাপানি অ্যানিমে বা অ্যানিমেশন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মানে জাপান থেকে এগুলো বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতে শুরু করল। হাতে আঁকা এই কমিকগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হলো। যা নিয়ে গড়ে উঠেছে জাপানের অ্যানিমে শিল্প। একটি অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যানিমেটেড টেলিভিশন শো জাপানে নির্মিত হয়। তারপর সেগুলো বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। শুধু রপ্তানি নয়, এগুলো বিশ্বের নানান দেশে তুমুল জনপ্রিয়। 

ডিউক ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘দ্য সোল অব অ্যানিমে’ বইতে কন্ড্রি দাবি করেছেন, জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মাঙ্গা ও অ্যানিমের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিতে বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে জাপান। তাই মানতেই হবে জাপানি অ্যানিমের সাংস্কৃতিক প্রসার বিরাট। 

জাপানে এটিকে প্রতিনিয়ত বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দিতে নানা কৌশলও ব্যবহার করছে। যেমন-২০০৪ সালে ইরাক পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য ট্যাঙ্ক ও ট্রাক পাঠিয়েছিল দেশটি। তখন ইরাকিরা ভেবেছিল ট্রাকে লাগানো জাপানের পতাকা আর কতদিনই বা থাকবে! মানুষ একসময় ভুলে যাবে, এই ট্রাকগুলো কোন দেশ দিয়েছিল; কিন্তু জাপান সেখানে একটি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। তারা সেসব ট্রাকে জনপ্রিয় অ্যানিমেশনের স্টিকারও এঁকে দিয়েছিল। যেন কোন দেশ ট্রাকগুলো সরবরাহ করছে, তা সহজেই বোঝা যায়। 

জাপানের অ্যানিমের উৎস প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো। তথ্য অনুযায়ী, জাপানই কেবল যুদ্ধোত্তর যুগে কার্টুন সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছিল। তাদের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অ্যানিমের মধ্যে আছে ভিডিও গেমস, কার্ড, কার্টুন, পোকেমন সিরিজ। 

ইয়ান কন্ড্রি তার বইটি লেখার জন্য আট বছর গবেষণা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘এই কাজগুলো করা শিল্পীদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য, তবে তা লাভজনক নয়।’ গবেষণার সময় কয়েক ডজন অ্যানিমে স্টুডিও, কর্মশালা এবং শিল্পীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘এটি মিডিয়ার সবচেয়ে শ্রম-নিবিড় কাজগুলোর একটি। অথচ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যানিমে থেকে খুব বেশি লাভ করতে পারে না।’

তার কথাতে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, যে কাজ দিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায় না, সেটি কীভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল? ইয়ান কন্ড্রি বলছেন, ডিজিটাল যুগে বিনোদন শিল্পের সফলতার জন্য শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না। আবার হাতে আঁকা কার্টুনগুলো নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করলেও সব হয়ে যাবে না। বরং এগুলোর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য মাধ্যমে ব্যবসা করতে হবে। 

তার মতে, অ্যানিমে প্রযোজকরা অনেক সিরিজ তৈরি করেন। তারপর কোনগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখেন। একবার কোনো সিরিজের চরিত্র দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হলে, তারা এগুলো দিয়ে খেলনা, গেমস ও বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 

অ্যানিমের এই জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটও বেশ পুরনো। কন্ড্রি তার বইয়ে বলেছেন, এর সফলতা ইন্টারনেটের বাণিজ্যিকীকরণ ও সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থানের আগেই শুরু হয়েছিল। পরে তা ক্রমবর্ধমানভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। যদি পেছন ফেরা হয়, তাহলে দেখা যাবে গত কয়েক দশকে এর জনপ্রিয়তা কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দিন দিন জাপানি অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বেড়েছে ও বাড়ছে। 

কী আছে জাপানি অ্যানিমেতে

বিশ্বব্যাপী তাদের অ্যানিমের এই জনপ্রিয়তার কারণ কী? কিংবা কী আছে জাপানি অ্যানিমেতে? এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে। যেমন-অনন্য গল্প বলা, অ্যানিমেতে প্রায়ই এমন গল্প তুলে ধরা হয়, যা সাধারণত পশ্চিমা মিডিয়া ও অন্যান্য মিডিয়াতে আমরা যা দেখি তার চেয়ে আলাদা। দ্বিতীয়ত আকর্ষণীয় চরিত্র, অ্যানিমের চরিত্রগুলোকে সবসময় বেশ আকর্ষণীয় করে দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। যা সহজে তারা গ্রহণ করে। তৃতীয়ত ভিজ্যুয়াল স্টাইল, অ্যানিমের একটি স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল আছে। আর এটিই অ্যানিমেশনের অন্যান্য ফর্ম থেকে জাপানি অ্যানিমেকে আলাদা করেছে। চতুর্থত আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, অ্যানিমের বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাই দেশের যে কোনো প্রান্তের মানুষ এটি উপভোগ করতে পারে। পঞ্চম কারণ হলো সহজলভ্যতা, বিভিন্ন স্ট্রিমিং পরিষেবা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে অ্যানিমে আগের চেয়ে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। 

শুধু কি এগুলোই অ্যানিমের জনপ্রিয়তার কারণ? না, অ্যানিমেকে বিশেষ করে তোলার আসল উত্তরটা লুকিয়ে আছে দর্শকদের মধ্যেই। কারণ অ্যানিমের গল্পে সাধারণত জটিল ও গভীর প্লট থাকে, তাই দর্শকরা সিরিজগুলোতে পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। আবার অ্যানিমেতে গল্পগুলো খুব অদ্ভুতভাবে বলা হয়। সত্যটি হলো, জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিওগুলো জানে, সারা বিশ্বে তাদের বৈচিত্র্যময় ভক্ত রয়েছে। তাই সব বয়সীর জন্য জনরা, প্লট, শৈলী ও চরিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না। 

অ্যানিমে প্রযোজকরা চলচ্চিত্র (ওভিএ), ভিডিও গেমস, খেলনা ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে ভক্তদের পছন্দের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে থাকে। ভক্তদের এই গ্রুপটি কেবল জাপানে কেন্দ্রীভূত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে। আর এ কারণেই অ্যানিমে বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম। 

যুক্তরাষ্ট্রেও অ্যানিমের জনপ্রিয়তা

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ব্যতিক্রমী। তাদের নিজেদের সংস্কৃতি অনেক আধুনিক ও সমৃদ্ধ। তাই অন্য দেশের সংস্কৃতি দিয়ে তাদের বাজার ধরা বেশ কঠিন। অথচ সাম্প্রতিক দশকে আমেরিকানদের মাঝে অ্যানিমে প্রীতি বেড়েছে। সেখানকার সব বয়সীদের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি করে ধীরে ধীরে মার্কিন পপ সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে অ্যানিমে। এর কারণ বর্তমানে তারা কেবল বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক থেকে নয়, অন্যান্য উৎস থেকেও এগুলো দেখতে পারে। আজকের যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানিমে এত জনপ্রিয় হওয়ার এটিও একটি কারণ। আবার মার্কিন অ্যানিমেশনগুলোর বেশিরভাগই অনুমানযোগ্য, তাই সেখানে নতুনত্বের কিছু নেই। 

দেশটিতে অ্যানিমের বর্তমান জনপ্রিয়তা, প্রতিবছর সেখানে অনুষ্ঠিত হওয়া অ্যানিমে সম্মেলনে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত অ্যানিমে এক্সপোর প্রতিটি সংস্করণে এক লাখের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে। সেখানে সেইলর মুন, ডেথ নোট, পোকেমন, ড্রাগন বল ও নারুতো শিপুডেনের মতো সিরিজগুলোর বিশাল ফ্যান বেস রয়েছে। 

আরব বিশ্বেও আছে অ্যানিমের জনপ্রিয়তা

কমিকস, অ্যানিমেশন ও অন্যান্য অনুরূপ ভিজ্যুয়াল বিনোদন আরব বিশ্বে অপরিচিত নয়। কমিকস, বিশেষত আরবি ভাষায় কিশসা মুসাওয়ারা (যার অর্থ আঁকা ইতিহাস) নামে পরিচিত। ১৮৭০ সালের প্রথম দিকে এই অঞ্চলে মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য রাওআত আল-মাদারিস (স্কুল বাগান) নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল। তখন থেকে কমিকসের প্রচলন শুরু হয়। 

পঞ্চাশের দশকে অবশ্য এই ঘরানার যাত্রা আরও ভালোভাবে শুরু হয়। এই সময়কালে সিন্দাবাদ ও সামির প্রকাশিত হয়েছিল। এই ফর‌ম্যাট ছিল কমিকস বা মাঙ্গার মতো। তবে পশ্চিমা কমিকস ও জাপানি মাঙ্গা ষাটের দশকের আগে ছবিতে প্রবেশ করেনি। এই সময়কালে মার্ভেল সুপার হিরো কমিকসের মতো পপ সংস্কৃতিগুলো আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিল। তখনো আরব বিশ্বে জাপানি মাঙ্গা সেভাবে ছড়ায়নি। 

আরব বিশ্বে মূলত জাপানি অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে আশির দশকে জনপ্রিয় সিরিজগুলো আরবিতে ডাব করা হলে। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিরিয়ার দামেস্কভিত্তিক আল-জাহরা সেন্টার ছিল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র কোম্পানি যারা জাপানি থেকে আরবিতে অ্যানিমের ডাব করেছিল। আল-জাহরা সেন্টার ক্যাপ্টেন সুবাসা, ড্রাগন বল, হান্টার এক্স হান্টার, ওয়ান পিস ডাব করে। 

১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ের আগে কমিকস ও অ্যানিমের জন্য নির্ধারিত কোনো চ্যানেল ছিল না। তখন মূলত শিশুদের জন্য ডাব করা কার্টুন সিরিজগুলো স্থানীয় টিভি চ্যানেলে নির্দিষ্ট সময়ে দেখানো হতো। ১৯৯৭ সালে অরবিট মিডিয়া নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্যে ডিজনি চ্যানেল চালু করেছিল। চ্যানেলটির আরবি সংস্করণ মিশর ও লেবাননে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। যদিও সেন্সরশিপের কারণে এই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে এটি সেই সময়ে আরব বিশ্বের শিশুদের জন্য বরাদ্দ একমাত্র চ্যানেল ছিল। 

২০০০ সালে শুরু হওয়া আরব টেলিভিশন চ্যানেল স্পেসটুনের মাধ্যমে বেশিরভাগ অ্যানিমে সিরিজ আরব বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। চ্যানেলটি জাপানি অ্যানিমেশন ও শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের দিকে লক্ষ্য করে প্রোগ্রামগুলো সাজাত। 

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী অ্যানিমে ও মাঙ্গা শিল্পের জনপ্রিয়তা অনস্বীকার্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বেশ। তাই সেখানে অ্যানিমের একটি ভালো বাজার গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয় সরকারি সহায়তায় সৌদি আরব মাঙ্গা ও অ্যানিমে শিল্পের বিকাশে জাপানি প্রযোজক, অ্যানিমেটর ও প্রকাশকদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। 

কয়েক বছর ধরে খেয়াল করা যাচ্ছে, বেশ কিছু বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও আরব বিশ্ব জাপানি গল্পের বড় ভোক্তা হয়ে উঠেছে। আরব বিশ্বে অ্যানিমে ও মাঙ্গার আধিপত্য ধীরে ধীরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অতএব জাপানি ও পশ্চিমা মাঙ্গা ও অ্যানিমে প্রকাশকদের আরবিভাষী বাজার প্রসারের বিশাল সুযোগ রয়েছে। তবে আরব বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা অবশ্যই আরবি ভাষা। একটি অনন্য ও পরিশীলিত ভাষা এবং বিশ্বের অন্যতম কঠিন ভাষার একটি। সুতরাং এখানে আধিপত্য ধরে রাখতে সেরা এবং পেশাদার অনুবাদক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কেন এই অ্যানিমে আসক্তি?

অ্যানিমে বিভিন্ন বয়সীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এর ভক্তদের বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং তারা এর প্রতি আসক্তও। আর প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিনের রুটিনের জন্য একটি ব্যস্ত সময়সূচি থাকে। তাই অ্যানিমে সিরিজের ফরম্যাট তাদের জন্য আদর্শ। কারণ সাধারণত অ্যানিমে সিরিজের প্রতি পর্বে কুড়ি মিনিটের বেশি হয় না। তাই প্রতিটি পর্ব দেখা ও উপভোগ করা সহজ। এতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সিরিজ উপভোগ করা যায়। 

অন্যদিকে অ্যানিমে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট মাধ্যমে, অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে সহজে পাওয়া যায়। তাই মানুষ এগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে দেখতে পারেন। আর দেখতে দেখতে আসক্তি তৈরি হয়। যেহেতু গল্পের প্লট আকর্ষণীয় হয়, তাই আসক্ত হতে খুব সময় লাগে না। 

বর্তমানে এই মাধ্যমটি মাঙ্গা, মার্চেন্ডাইজিং, কসপ্লের উপাদানসহ অন্যান্য উপকরণের জন্য বিশ্বব্যাপী কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করেছে। অবাক করা তথ্য হলো কেবল জাপানের মধ্যেই নয়-প্রযোজনা সংস্থাগুলো ১১২টির বেশি দেশেও তাদের সামগ্রী রপ্তানি করে। 

অ্যাসোসিয়েশন অব জাপানিজ অ্যানিমেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছে কোনো না কোনো ধরনের অ্যানিমে পৌঁছেছে। যেসব দেশে অ্যানিমে সবচেয়ে জনপ্রিয় তাদের মধ্যেচীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, স্পেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান আছে। এসব দেশে বেশিরভাগ মানুষ তাদের বিনোদনের অংশ হিসেবে অ্যানিমে সিরিজ দেখে থাকে। 

মাঙ্গা ও অ্যানিমে এক নয়!

এখানে একটি বিষয় জানিয়ে রাখা ভালো, জাপানি কমিকস এবং অ্যানিমের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। জাপানি কমিকসকে মাঙ্গা বলা হয়, যা বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। তাই অনেকে মাঙ্গা ও অ্যানিমে এক মনে করেন; কিন্তু আদতে তা সঠিক নয়। 

মাঙ্গা হলো জাপানি কমিকস, যা পশ্চিমা বিশ্ব থেকে স্বাধীনভাবে বিকাশ লাভ করেছে। প্রথম মাঙ্গা তৈরি হয়েছিল ১৭৯৮ সালে। শব্দটি দুটি কাঞ্জির সমন্বয়ে গঠিত। এটি আক্ষরিক অর্থে মানুষের জন্য ‘খামখেয়ালি বা তাৎক্ষণিক ছবি’-এভাবে অনুবাদ করা যেতে পারে। যদিও আগের জাপানি শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু আধুনিক মাঙ্গা শিল্প এমন একটি শৈলী যা মূলত ১৯ শতকের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল। 

অন্যদিকে অ্যানিমে ইংরেজি শব্দ ‘অ্যানিমেশন’ থেকে এসেছে। আর এটি জাপানের সব অ্যানিমেটেড কাজের ইঙ্গিত করে। অ্যানিমে এমনভাবে তৈরি হয় যে, যে কোনো বয়সী দর্শকই তা দেখতে পারেন; কিন্তু অনেকে অ্যানিমের সঙ্গে প্রায়ই মাঙ্গাকে মিলিয়ে বিভ্রান্ত হন। তবে মাঙ্গা থেকেই তৈরি হয় অ্যানিমে। এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া অধিকাংশ অ্যানিমের মূল ভিত্তিই ছিল মাঙ্গা। 

অ্যানিমে মূলত ‘অ্যানিমেশন ইন জাপান’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। প্রথম অ্যানিমে চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘কাতশুদৌ শাশিন’। ১৯০৭ সালে বানানো এই চলচ্চিত্রটি ছিল মাত্র ৩ সেকেন্ডের। তবে এটি কে বানিয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। এরপর ১৯১৭ সালে জাপানি শিল্পী শিমোকাওয়া ওটেন, জুনিচি কাওচি ও সেটারো কিটাইয়ামার হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় মূল অ্যানিমেশন ইন জাপানের। 

বাংলাদেশেও অ্যানিমের জনপ্রিয়তা

অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। রয়েছে অ্যানিমের বেশ বড়সড় ভক্তমহল। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের যেমন খুশি তেমন সাজো বা কসপ্লেলেতেও অ্যানিমের মতো চরিত্রগুলোর বেশে সাজছে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বাংলা সাবটাইটেলসহ বাংলাদেশ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম আইফ্লিক্স নিয়ে এসেছে অ্যানিমে।  

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //