সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অবশেষে স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ মঙ্গলবার (৭ মে) বিকেল ৫টায় জামালপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সরিষাবাড়ীতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগামীকাল বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠেয় ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সকল পদের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) মো. আতিয়ার রহমান নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত এ পত্র জারি করেছেন।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, ১ম ধাপে অনুষ্ঠেয় সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচন আচরণ (বিধিমালা ১৮ এবং ৩১ এর বিধান) লঙ্ঘন করায় রবিবার (৫ মে) বিধিমালার ৩৩ বিধান অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। এর বিরুদ্ধে রফিকুল ইসলাম রিট করলে উচ্চ আদালত সোমবার (৬ মে) তার প্রার্থিতা বহালের আদেশ দেন। এরপর ইসি উচ্চ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার (৭ মে) নো-অর্ডার প্রদান করেন। এ অবস্থায় বাস্তবতার নিরিখে সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল পদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলা জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ছিলেন রফিকুল ইসলাম (আনারস) ও তালেব উদ্দিন (দোয়াতকলম)।

জানা গেছে, প্রথমদিকে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী ছিলেন। এরমধ্যে পোগলদিঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন এবং জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ্ নানা নাটকীয়তা ও দেনদরবার শেষে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। শেষপর্যন্ত রফিকুল ইসলাম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচার করলেও তার উপস্থিতিতে দুইজন কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী লোকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে।

২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাতে পিংনা ইউনিয়নের নির্বাচনী পথসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং সুজাত আলী কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুল হাসান সাইদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয় বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, তাদের জবান আমরা বন্ধ করে দেবো। আমরা আগামী ৮ই মে'র নির্বাচনে অন্য কোনো মার্কার এজেন্ট দিতে দেবো না। প্রতিপক্ষের লোকদের দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে, যাদের দাঁত নেই, তাদের চাপার হাড্ডি ভেঙে দেওয়া হবে। হাত ভেঙে যমুনা নদীতে নিক্ষেপ করা হবে।’

এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ২৭ এপ্রিল (শনিবার) তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন বিধিমালা) আচরণ ২০১৬ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩-এ আইনে মামলা দায়ের করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন। ওইদিনই পুলিশ ওই দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

সর্বশেষ সকল জল্পনাকল্পনা ও আইনি জটিলতা পেরিয়ে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাবলে সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //